আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে আশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সাবরিনার সাথে বিয়ে ঠিক করে। সাবরিনার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে আশিক ও সাবরিনা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
অনুপম রেলগাড়িতে করে মাকে নিয়ে তীর্থে যাচ্ছিল।
"এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি।"- উক্তিটির মাধ্যমে অনুপম আত্মতুষ্টি লাভের প্রয়াস পেয়েছে।
'অপরিচিতা' গল্পে অনুপমের মামার লোভী ও হীন মানসিকতার কারণে কল্যাণীর সঙ্গে অনুপমের বিয়ে ভেঙে গেলে সে বিরহে জর্জরিত হয়। একারণেই পরবর্তীতে মনস্তাপে ভেঙে পড়া অনুপম কল্যাণীকে বিয়ে করতে না পেরেও তার কাছাকাছি থাকতে চেয়েছে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর একদিন মাকে নিয়ে তীর্থে যাওয়ার পথে কল্যাণীকে দেখে মুগ্ধ হয় অনুপম। এরপর তার কাছে ও তার পিতার কাছে ক্ষমা চায় অনুপম। সবকিছু ছেড়ে সে বছরের পর বছর কানপুরে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকে। কল্যাণী তাকে ক্ষমা করে দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি। তবুও অনুপম তার দেখা পায়, কণ্ঠ শোনে, সুবিধামতো তার কাজ করে দিয়ে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে চায়। কল্যাণীকে আশ্রয় করে সেই আনন্দেই সে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছে।
• অনুচ্ছেদের সাবরিনার সাথে প্রতিবাদী মনোভাবের দিক দিয়ে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর মিল রয়েছে।
• নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ সমাজে অহরহ দেখা যায়। অবলা বলে তাদের ওপর জোরপূর্বক অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে সাহসী নারীরা এক্ষেত্রে অগ্রগামী। তারা অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে।
• অনুচ্ছেদের সাবরিনার বাবা আশিকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করে। বাবা গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় বরপক্ষকে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সাবরিনা তা মেনে নেয়নি, পরে সে বেঁকে বসে। 'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণী চরিত্রেও তার বিয়েতে যৌতুকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। বরপক্ষ যখন তার বাবার দেওয়া গয়না সেকরা দিয়ে পরীক্ষা করায় তখন তার বাবার সেই বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। সেই ঘটনায় কল্যাণী চরিত্রকে এক সাহসী ও প্রতিবাদী চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায়, যা অনুচ্ছেদের সাবরিনার কর্মকাণ্ডেও লক্ষণীয়।
• "অনুচ্ছেদে বর্ণিত সামাজিক অসংগতিই 'অপরিচিতা'য় বিস্তৃতি লাভ করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• সমাজে নানা রকম প্রথা ও অসংগতি বিদ্যমান। যৌতুক বা পণপ্রথা সবচেয়ে বড় সামাজিক ব্যাধি। যৌতুকের কালো থাবায় অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অনেক নারীর সংসার ভাঙে। এমনকি তাদের জীবনও অকালে ঝরে যায়। এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
• অনুচ্ছেদের আশিকের বাবা-মা ছেলের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে। যার মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদি। তাদের লোভী মানসিকতার জন্যই সমাজে এই ঘৃণ্য প্রথা এখনো টিকে আছে। 'অপরিচিতা' গল্পেও এ ধরনের অসংগতি পরিদৃষ্ট হয়। অনুপমের মামা তার ভাগ্নের বিয়ে ঠিক করে যৌতুকের বিনিময়ে এবং শেষ পর্যন্ত এই লোভী মানসিকতা ও যৌতুকের কারণেই বিয়ে ভেঙে যায়।
• বহুকাল থেকে চলে আসা যৌতুকপ্রথা এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান। যৌতুকের কারণে এখনো অনেক পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। উদ্দীপকের আশিকের বাবা-মা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের মামা এ ধরনের লোভী মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ। 'অপরিচিতা' গল্পের এই সামাজিক অসংগতি অনেকাংশেই অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে। এ দিক থেকে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
