ইথানয়িক এসিড এর জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে।
জৈব যৌগের অ্যালকেনসমূহকে প্যারাফিন বলে। প্যারাফিন একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ হলো নিষ্ক্রিয় বা আকর্ষণ নেই। অ্যালকেনসমূহে কার্বন-কার্বন এবং কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধনসমূহ অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় অ্যালকেনসমূহ সাধারণত রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়। ফলে এরা সাধারণত তীব্র এসিড, ক্ষারক ও জারক বা বিজারক পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে না। অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় থাকে। তাই অ্যালকেনসমূহকে প্যারাফিন বলে।
উদ্দীপকের বিক্রিয়াটি পূর্ণ করে-
সুতরাং, A যৌগটি প্রোপিন (CH3-CH-CHz)। নিচে প্রোপিনের একটি প্রস্তুতি সমীকরণসহ বর্ণনা করা হলো-
প্রোপিন প্রস্তুতি : প্রোপানল এর সাথে অতিরিক্ত গাঢ় সালফিউরিক এসিডকে উত্তপ্ত করলে প্রোপিন ও পানি উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকের A যৌগটি প্রোপিন [গ থেকে]। প্রোপিন থেকে গঠিত যুত পলিমার হলো পলিপ্রোপিন। এটি দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নিচে রাসায়নিক সমীকরণসহ তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রায় তাপমাত্রায় উত্তপ্ত টাইটেনিয়াম ট্রাইক্লোরাইড ( ) প্রভাবকের উপস্থিতিতে ও 140 atm চাপে হেপ্টেন দ্রাবকে দ্রবীভূত প্রোপিলিন বা প্রোপিন এর অসংখ্য অণু যুক্ত হয়ে পলিপ্রোপিন পলিমার গঠন করে।
পলিপ্রোপিন পলিমার গার্মেন্টস সুতা, টিউব, খেলনা, ইলেকট্রনিক যন্ত্র, দড়ি, কার্পেট, মোটা রজ্জু, বোতল, পাইপ, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে পলিপ্রোপিন পলিমার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা যে সকল জিনিস মাটিতে ফেলি সেগুলো ব্যাকটেরিয়া বা বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন দ্বারা বা মাটিতে ও পানিতে অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু প্লাস্টিক দ্রব্য যেমন পলিপ্রোপিন ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। তেমনি অন্যান্য পদার্থের সাথেও বিক্রিয়া করে না। তাই মাটিতে বা পানিতে ফেললে একই রকম থেকে যায়। ফলে মাটি ও পানির দূষণ ঘটায়। সেই সাথে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, পলিপ্রোপিন পলিমার দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
