একদিন এক চাষি ঈগল পাখিকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করেছিল। ঈগল পাখি সেই উপকারের কথা ভোলেনি। কয়েক দিন পর ঈগল পাখি চাষিকে একটি দেয়ালের পাশে বসে থাকতে দেখে। ঈগল বুঝতে পারে দেয়ালটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আছে। ঈগল চাষির টুপিটা ছোঁ মেরে নিয়ে যায় এবং চাষি ঈগলের পেছন পেছন দৌড় দেয়। আর তখনই দেয়ালটি ভেঙে পড়ে। ঈগল পাখিটি চাষির উপকার না ভুলে এভাবে উপকারের প্রতিদান দেয়।
খলিফা মামুন খলিফা হারুনর রশীদের দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন।
আলী ইবনে আব্বাস যখন খলিফাকে বলেন, বন্দি সম্পর্কে তার কিছু বলার আছে তখন গল্পে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
'প্রত্যুপকার' গল্পে 'তাঁহার কোপানল প্রজ্বলিত হইয়া উঠিল' বাক্যটি খলিফার হঠাৎ তীব্র রাগের প্রকাশ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। খলিফার আদেশ ছিল, আলী ইবনে আব্বাস যেন আগামীকাল বন্দিকে খলিফার নিকট উপস্থিত করে। কিন্তু পরদিন আলী ইবনে আব্বাসের সাথে বন্দিকে দেখতে না পাওয়া এবং বন্দি সম্পর্কে আলীর কিছু বক্তব্য আছে শুনে খলিফার ক্রোধ আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। খলিফা রাগে শপথ করে বলেন, যদি আলী তাকে ছাড়িয়ে দেয় তাহলে আলীকেও গুরুতর দণ্ড দেওয়া হবে। মূলত খলিফা বন্দি লোকটিকে দেখতে না - পেয়ে আলী ইবনে আব্বাসের প্রতি সন্দেহ করে ভীষণ রেগে যান।
উদ্দীপকের সাথে 'প্রত্যুপকার' রচনার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো উপকারীর প্রতি উপকার'।
'প্রত্যুপকার' গল্পটি আলী ইবনে আব্বাস নামক এক ব্যক্তির প্রতি উপকারের কাহিনি। আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাস শহরে একবার এক ব্যক্তির আশ্রয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন। বহু বছর পরে সেই উপকারীর দুঃসময়ে আলী তার প্রাণরক্ষা করে উপকারের প্রতিদান দেন।
উদ্দীপকে ঈগল পাখির উপকারীর প্রতি-উপকারের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। ঈগল পাখিকে যে কৃষক ফাঁদ থেকে বাঁচায়, তাকে ভাঙা দেয়ালের বিপদ থেকে বাঁচিয়ে ঈগল সেই উপকারের প্রতি-উপকার করতে ভোলে না। 'প্রত্যুপকার' গল্পে আলী ইবনে আব্বাস নিজের দুঃসময়ে যার আশ্রয় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন, সেই উপকারীর বিপদে নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেই উপকারের প্রতি-উপকার করেন। এই প্রতি-উপকারের দিক থেকে উভয়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
- উদ্দীপকে 'প্রত্যুপকার' গল্পে বর্ণিত খলিফার মাহাত্ম্য এবং নিচু প্রকৃতির লোকের ঈর্ষার দিকগুলো অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি 'প্রত্যুপকার' রচনার সমগ্র ভাবকে ধারণ করেনি।
'প্রত্যুপকার' গল্পে দুজন মহৎ ব্যক্তির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, যাদের একজন নিঃস্বার্থ উপকারী, অন্যজন সকৃতজ্ঞ প্রত্যুপকারী। খলিফার মাহাত্ম্য ও নীচ প্রকৃতির লোকের ঈর্ষাও এ গল্পের অন্যতম দিক।
উদ্দীপকে ঈগল পাখির প্রত্যুপকার প্রকাশ পেয়েছে। বিপদের সময় ঈগলকে যে চাষি রক্ষা করেছিল, ঈগলও তার বিপদে পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যুপকার করতে ভোলেনি। 'প্রত্যুপকার' রচনাতেও আলী ইবনে আব্বাস তার দুঃসময়ে যার সহযোগিতা পেয়েছিলেন, তার বিপদে তিনিও পাশে দাঁড়াতে ভোলেনি। এ দিক থেকে উদ্দীপক ও 'প্রত্যুপকার' গল্প সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সাথে 'প্রত্যুপকার' রচনার প্রতি-উপকারের সাদৃশ্য থাকলেও এ রচনার মূলভাব আরও বিস্তৃত। এ গল্পে খলিফা মামুনের মাহাত্ম্য ও ন্যায়বিচারের বিচক্ষণ দিকটি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া এ গল্পে রয়েছে নীচ প্রকৃতির লোকের ঈর্ষাবশত নির্দোষ ব্যক্তিকে দোষী সাজিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার কূটচক্রান্ত। উল্লিখিত এ বিষয়গুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় উদ্দীপকটি এ গল্পের সমগ্র ভাবকে ধারণ করে না।
