পুতুলের মা খুকি আজ ভয়ানক ব্যস্ত। আজ কিনা ছোট্ট পুতুলের জন্মদিন, তাই খুব খাওয়ার ধুম লেগেছে। ছোট্ট টেবিলের উপর ছোট্ট ছোট্ট থালা-বাটি সাজিয়ে তার মধ্যে কী চমৎকার করে খাবার তৈরি করে রাখা হয়েছে। আর চারিদিকে সত্যিকারের ছোট্ট ছোট্ট চেয়ার সাজানো রয়েছে, পুতুলেরা বসে খাবে বলে।
কালোমেঘ হলো যকৃতের রোগের উপকারী এক প্রকার তিক্ত স্বাদের গাছ।
প্রশ্নোর কথাটি অপু বলেছিল তার দিদি দুর্গাকে, কারণ তার মা বিভিন্ন সংস্কারে বিশ্বাস করে এবং এর একটি হলো বাসি কাপড়ে ভেলের ভাঁড় ছোঁয়া নিষেধ।
সেকালের গ্রাম্য সমাজের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নানা ধরনের আচার-সংস্কার প্রচলিত ছিল। সকালে স্নান না করে আগের দিনের ধরা কাপড়কে বাসি কাপড় বলা হতো এবং তা পরা থাকলে কোনোকিছুতে হাত দেওয়া নিষেধ ছিল। দুর্গা কতকগুলো কচি আম কটা নিয়ে এসেছে। সেগুলো তেল-লবণ দিয়ে মাখিয়ে খাবে। তাই দুর্গা অপুকে তেল-লবণ নিয়ে আসতে বলে। কিন্তু অপু তখনও আগের দিনের বাসি কাপড় পরা ছিল। তাই অপু প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো মাতৃয়েহ ও সংসারের কাজে ব্যস্ততা।
দারিদ্রদ্র্য কখনো মানবিক সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে না। দারিদ্র্যের কারণে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করে। কিন্তু সন্তানদের সঙ্গে পিতা-মাতার যে স্নেহ-ভালোবাসার সম্পর্ক সেখানে দারিদ্র্য কখনো আঘাত হানতে পারে না।
উদ্দীপকের খুকি ভয়ানক ব্যস্ত। কারণ তার মেয়ে পুতুলের আজ জন্মদিন। চারদিকে তাই খাওয়ার ধুম লেগেছে। ছোট টেবিলের ওপর খালা-বাটিতে চমৎকার খাবার তৈরি করে রাখা হয়েছে। পুতুলেরা বসে খাবে বলে সাজানো হয়েছে ছোট ছোট চেয়ার। 'আম-আঁটির তেঁপু' গল্পে সর্বজয়ার সংসারে অভাব। তাকে সারাক্ষণ ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। দম ফেলার সময় পায় না সর্বজয়া। অপু-দুর্গার অধিকাংশ আবদারই মেটানো সম্ভব হয় না তার পক্ষে। তাই বলে স্নেহ-ভালোবাসার কোনো কমতি নেই ওদের প্রতি। দারিদ্র্য সত্ত্বেও সন্তানস্নেহে সর্বজয়া শাশ্বত এক জননী। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো মাতৃস্নেহ ও সংসারের কাজে ব্যস্ততা।
'উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার ঘর ছেড়ে একদিকে বেরিয়ে যেতে চাওয়ার কারণ নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের জীবন সুখ-দুঃখের চারণক্ষেত্র। মানুষের জীবনে কখনো সুখ, কখনো দুঃখ আসে। সুখ-দুঃখ মেনে নিয়েই মানুষ জীবনের পথে এগিয়ে যায়। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত মানুষ জীবনে পথ চলতে গিয়ে নানান সমস্যা ও সংকটে পড়ে।
উদ্দীপক ও 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া উভয়েই শাশ্বত মাতৃস্নেহের প্রতীক। 'তারা সন্তানের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করে হাসি মুখে। কিন্তু গল্পের সর্বজয়ার অভাবের সংসার। হরিহরের সামান্য আয় দিয়ে সর্বজয়ার সংসার চলে না। ছেলে-মেয়েকে একটু ভালো খাবার ও পোশাক দিতে পারে না। পাওনাদাররাও সব সময় তাগাদা দিতে থাকে। তাই সর্বজয়ার মনে হয় ঘর ছেড়ে একদিকে বেরিয়ে যেতে।
সংসারের কাজের ব্যস্ততা ও মাতৃস্নেহের দিক থেকে উদ্দীপকের পুতুলের মায়ের সঙ্গে আলোচ্য গল্পের সর্বজয়ার সাদৃশ্য, রয়েছে। তবে এ সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি সর্বজয়ার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ নয়। সে বেরিয়ে যেতে চায় সংসারে অভাবের তাড়নায়। সন্তানদের ভালো খাবার ও কাপড় দিতে না পারার কারণে। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
