সালেহা বেগমের একমাত্র সন্তান রহিম ভীষণ চঞ্চল। সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ানোই তার কাজ। সে কখনও নদীর তীরে, কখনও বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। কোন বাগানে বরই পেকেছে, কাঁঠাল পেকেছে, কোন গাছের আম মিষ্টি- এসব খবর রহিমের চেয়ে কেউ ভালো জানে না। তার মা সাহেলা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। শত কষ্ট করেও পঙ্গু স্বামী ও সন্তানদের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোটাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে। যা নিয়ে সে সব সময় উদ্বিগ্ন ও ব্যস্ত থাকে।
'গরাদ' হলো 'জানালার সিক'।
অপু মুখ ফসকে আম খাওয়ার কথা মায়ের সামনে বলে ফেলায় দুর্গা অপুকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
কুড়িয়ে আনা কাঁচা আম অপু আর দুর্গা একত্রে খেয়েছিল। কিন্তু তা তারা খেয়েছিল গোপনে। এ আম খাওয়ার কথা মা জানতেন না এবং মা যাতে জানতে না পারেন এ জন্য উভয়ে খুব সতর্ক ছিল। কারণ মা জানতে পারলে তাকে বকবেন। কিন্তু চাল ভাজা খেতে গিয়ে অপু মুখ ফসকে সেই কথাই মায়ের সামনে বলে ফেলে। এ কারণেই দুলী অপুকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।
উদ্দীপকের রহিমের আচরণে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুর্গার দুরন্তপনার দিকটির ছায়াপাত ঘটেছে।
প্রত্যেকটি মানুষের জীবনের শৈশব একটি মূল্যবান সময়। শৈশবের স্মৃতি মানুষকে সারা জীবন চালিত করে। শৈশবের আনন্দ-বেদনার স্মৃতি মানুষ কখনো ভুলতে পারে না। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষের শৈশবস্মৃতি অসাধারণ মুগ্ধতায় পরিপূর্ণ।
উদ্দীপকের রহিম ভীষণ চঞ্চল প্রকৃতির ছেলে। সারাক্ষণ সে ঘুরে বেড়ায়, কখনো নদীর তীরে, কখনো বনে-বাদাড়ে। কোন বাগানে বরই পেকেছে, কাঁঠাল পেকেছে, কোন গাছের আম মিষ্টি- এসব খবর তার সবচেয়ে বেশি জানা। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পেও আমরা উদ্দীপকের রহিমের মতো দুর্গাকে দেখি। সে সর্বত্র স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। সারা দিন বনে-বাদাড়ে নির্বিঘ্নে সে ঘুরে বেড়ায়। কাঁচা আম খাওয়ায় সে নির্বিকারচিত্ত। এক কথায়, উদ্দীপকের রহিম ও আলোচ্য গল্পের দুর্গা উভয়ে দুরন্ত প্রকৃতির। তাই আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের রহিমের আচরণে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুর্গার দুরন্তপনার দিকটির ছায়াপাত ঘটেছে।
"উদ্দীপকের সালেহা বেগম ও 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার উদ্বিগ্নতার স্বরূপ একই।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পল্লিজননীরা অতি দুঃখ-দুর্দশার মধ্য দিয়ে সংসারকর্ম পরিচালনা করে। সংসারের দুঃখ-দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। তবুও তারা স্বামী-সন্তান নিয়ে দিনের পর দিন সংসারধর্ম পালনে নিজেদের নিয়োজিত রাখে।
উদ্দীপকের সালেহা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালায়। শত কষ্ট সহ্য করেও সে পঙ্গু স্বামী ও সন্তান রহিমের দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করে। যদিও এই খাবার জোগাড় করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। অন্নসংস্থানের এ বিষয়টি নিয়ে সালেহা বেগম সব সময় উদ্বিগ্ন ও ব্যস্ত থাকে। আলোচ্য গল্পের সর্বজয়া উদ্দীপকের সালেহা বেগমের অনুরূপ চরিত্র। সর্বজয়ার স্বামী আট টাকা বেতনে রায়বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে, যা দিয়ে সংসার চলে না। তাই সর্বজয়া ধার-কর্জ করে সংসার, কোনোভাবে সচল রাখার চেষ্টা করে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া এবং উদ্দীপকের সালেহা বেগম সংগ্রামী জীবনযাপনের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ। সংসারকে সচল রাখতে উভয়ে সদা সচেষ্ট। অভাবের সংসারে পরিবারের মানুষের অন্নসংস্থান করতে দুজনকে সব সময় উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
