জীবিকার তাগিদে তিনু আর আরাফের মা সেই ভোরবেলায় বেরিয়ে যায়। কয়েক বাসায় কাজ করে তবেই বাড়ি ফেরে। তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।
এদিকে বোনকে নিয়ে আরাফ সারাদিন মাঠে-ঘাটে, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। নাওয়া-খাওয়ার কোনো খবর নেই। কখনো নদীর ধারে কাশবনে হারিয়ে যাওয়া। কখনো বা খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়ানো তাদের কাজ। বাড়ি ফিরেও মলিন বিছানায় শুয়ে ভাই-বোনের সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর গল্পই চলে সারাক্ষণ।
মা বকুনি দিবে, কোথায় যাওয়া হয়েছিল জিজ্ঞেস করবে-এসব ভেবেই দুর্গা নিরীহমুখে কিছু না বলে চুপি চুপি বাড়ির মধ্যে ঢুকল।
স্ত্রী সর্বজয়ার যে গল্প করে বেড়ানোর স্বভাব আছে, সেটি বোঝাতেই আলোচ্য কথাটি দরিদ্র বামুন হরিহর বলেছে।
সর্বজয়ার গল্প করার অভ্যাস আছে। একদিন হরিহর তাকে সতর্ক করে দেয় যে, সে যেন নতুন করে হরিহরের কাছে মন্ত্র নিতে ইচ্ছুক দশঘরার মাতবরদের কথা না বলে। কারণ দশঘরার মন্ত্রপাঠ নিতে ইচ্ছুক বাড়ির লোক সদগোপ জাতের। সদগোপরা নিম্নজাতের বলে সমাজে তাদেরকে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখা হয় না। এছাড়া গল্প বলে দুচারটা পয়সা আয় করা যায়। তাই সর্বজয়া সুযোগ পেলে গল্প করে।
উদ্দীপকের ১ম অংশের সাথে ‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো হরিহর-সর্বজয়ার অভাব-অনটন।
‘আম-আঁটির ভেঁপু’ গল্পে বর্ণিত হরিহর দরিদ্র বামুন। বামুন হলেও তার পরিবার আর্থিক অনটনের মধ্যে বাস করে। দেনার বোঝা টানতে গিয়ে হরিহরের পরিবার ভীষণ আর্থিক কষ্টের মধ্যে আছে। রায় বাড়ির পূজার্চনা পরিচালনা করে হরিহর। সেই বাড়ি থেকে প্রণামি হিসেবে পাওয়া আট টাকার ওপর তারা অনেকটা নির্ভরশীল। সেই টাকাও দুই-তিন মাস পরপর পাওয়া যায়।
উদ্দীপকের ১ম অংশে দেখা যায়, তিনু ও আরাফের মা আর্থিক অনটনে দিন কাটায়। তারা জীবিকার সন্ধানে ভোরবেলায় বেরিয়ে যায়। তারা উভয়ই অন্যের বাসায় কাজ করে। কয়েক বাসায় কাজ করে তবেই বাড়ি ফিরে আসে। এভাবে কঠোর পরিশ্রম করে তাদের চলতে হয়। তবু যেন তাদের সংসার চলে না। তিন বেলা খাবার যোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। এমন করুণ, দৈন্যদশা সর্বজয়া ও হরিহরের সংসারেও বিদ্যমান। গল্পের এদিকটির সাথেই উদ্দীপকের ১ম অংশের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
বাস্তবিকই উদ্দীপকের ২য় অংশে প্রতিফলিত দিকটিই 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের উপজীব্য বিষয়।
শৈশবকালের স্বভাবই চঞ্চলতার। এ সময় মন যা চায় তাই করতে ইচ্ছা করে। তখন মন কোনোই শাসন-বারণ মানে না। এ সময় কেবলই বনে-বাদাড়ে ঘুরতে ইচ্ছা করে। প্রকৃতির মাঝেই যেন খুঁজে পায় অনাবিল আনন্দ আর সুখ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের বিষয়বস্তুতে ফুটে উঠেছে দুই ভাই-বোন অপু-দুর্গার শৈশবের চঞ্চলতা। সেই সাথে দেখা যায়, প্রকৃতির মাঝে তাদের আনন্দের উচ্ছ্বাস এবং দুর্গার বাবা-মায়ের পরিবারের অর্থ-কষ্ট থেকে পরিত্রাণের চেষ্টা। দুর্গা সারাদিন গ্রামের এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ায়। মানুষের গাছের ফল পেড়ে খায়। বিচিত্র খেলাধুলা আর দুরন্তপনার মধ্যে ছোটো ভাই অপুকে নিয়ে সে শৈশবের আনন্দে অবগাহন করে। উদ্দীপকের ২য় অংশে এমন দিকই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের ২য় অংশে দেখা যায়, বোনকে নিয়ে আরাফ সারাদিন মাঠে-ঘাটে, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। ঠিক যেন গল্পের দুর্গা। দুর্গার স্বভাব-চরিত্রও আরাফের মতো চঞ্চল। আরাফ যখন ঘুরে বেড়ায় তখন তার নাওয়া-খাওয়ার কোনো খবর থাকে না। কখনো সে নদীর ধারে কাশবনে হারিয়ে যায়। কখনো মনের আনন্দে খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়ায়। তারা অপু-দুর্গাদের মতোই দরিদ্র। তাই বাড়ি ফিরেও মলিন বিছানায় শুয়ে পড়ে। তবু আনন্দের কমতি নেই তাদের। সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর গল্প চলে সারাক্ষণ। এমন দুরন্তপনা দুর্গার মাঝেও বিদ্যমান। তাই যথার্থই বলা যায়, উদ্দীপকের ২য় অংশে অভাবী অথচ দুরন্তপনার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা আলোচ্য গল্পেরও উপজীব্য বিষয়।
