(i) নুন আনতে পান্তা ফুরোয়,
চাল আনতে ডাল,
মাসের মধ্যেও কেনা হয়ে ওঠে না;
আদা পেঁয়াজ আর ঝাল।
(ii) আমরা ক’জন দুষ্টু ছেলের দল,
গাছের তলায় গড়েছি মোদের আস্তানা।
পাঠশালার শাসন বারণ ভেঙেছি মেলা,
বড় দীঘির পানিতে ভাসিয়েছি ভেলা।
ভেরেন্ডাকচার বেড়া হলো এরন্ড বা রেড়ি গাছের বেড়া।
'তুই তো একটা হাবা ছেলে' এ কথাটি স্নেহমিশ্রিত তিরষ্কারে সাবধান করার জন্য ছোট ভাই অপুকে দুর্গা বলে।
দুর্গা অন্য একজনের বাগান থেকে আমের কুসি বা কচি আম কুড়িয়ে আনে। ভাই অপুকে সে লবণ আর তেল আনতে বলে। মেঝেতে তেল পড়লে মা গালাগালি করবে। তাই সে অপুকে সতর্কতার সঙ্গে তেল ঢালতে বলে যেন ঘরের মেঝেতে না পড়ে। ভাইকে সতর্ক থাকার জন্যই মূলত দুর্গা প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
উদ্দীপক (ⅰ) এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দারিদ্র্যের চিত্রটি ধরা পড়েছে।
এ জগতে সবার অবস্থা এক রকম নয়। কেউ বসবাস করে অর্থের প্রাচুর্যের মধ্যে, আবার কারও বসবাস চরম দরিদ্রতার মধ্যে। দরিদ্রতা হলো এমন একটি অবস্থা যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা মেটাতে অক্ষম। দরিদ্র মানুষের প্রতিদিনের জীবন কাটে দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে এমনই এক দরিদ্র পরিবারের আখ্যান প্রকাশ পেয়েছে। দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত এক ব্রাহ্মণ পরিবারের প্রধান হরিহর। তার সামান্য আয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে দিনাতিপাত করা কষ্টসাধ্য। তাই তাদেরকে ধার-দেনা করে চলতে হয়। হরিহরের ঘরের প্রতিটি কোনায় কোনায় দরিদ্রতা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপক-(ⅰ) এ এমনই এক দরিদ্র পরিবারের শোচনীয় অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। দেখা যায়, ওখানেও নুন আনতে পান্তা ফুরায়। চাল, ডাল, আদা, পেঁয়াজসহ নিত্য ব্যবহার্য কোনোকিছুই তারা প্রয়োজন মতো কিনতে পারে না। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(i) এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দরিদ্রতার চিত্রটি পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপক (ⅰ) কে ছাপিয়ে উদ্দীপক (ii)-এর মমার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
শৈশব মানবজীবনের সবচেয়ে সুখের সময়। শৈশব মানেই দুরন্তপনা, অনাবিল আনন্দ। এসময় কোনো পিছুটান থাকে না। পারিবারিক ঝঞ্ঝাট, দীনতা বা যেকোনো সমস্যাই থাকুক না কেন, কোনোকিছুই শৈশবের দূরন্তপনাকে আটকে রাখতে পারে না।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন অপু ও দুর্গা চরিত্রের মধ্য দিয়ে। ডানপিটে কিশোরী দুর্গা, যার বয়স এগারো বছর। এই কিশোরী দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকে না। কার বাগানের আম গুটি ধরেছে, কার বাগানের জাম পেকেছে এগুলো তার নখদর্পণে। সারা দিন বনে-জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে নানা কিছু সে সংগ্রহ করে তারপর সেগুলো ভাইয়ের সঙ্গে ভাগ করে খায়। শৈশবে দুরন্তপনার এক চমৎকার আখ্যান রয়েছে এই গল্পে। এর পাশাপাশি পল্লি মায়ের শাশ্বত রূপ, দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত পরিবার, প্রকৃতির বর্ণনা ইত্যাদি উঠে এসেছে এই গল্পে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে অপু-দুর্গার শৈশবের দুরন্তপনাই এই গল্পের প্রধান সুর হয়েছে।
উদ্দীপক (ii)-এও শৈশবের দুরন্তপনার চিত্র ফুটে উঠেছে, যেখানে দেখা যায় কয়েকজন দুরন্ত ছেলের দল যারা গাছের তলায় আস্তানা গড়েছে। এ বিষয়টি যেন দুর্গার প্রকৃতির মধ্যে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়কে নির্দেশ করছে, যা আলোচ্য গল্পের প্রধান বিষয়। অপরদিকে উদ্দীপক (i)-এর চিত্র হরিহরের দারিদ্র্যকে নির্দেশ করে। তবে তা এই গল্পের মূল হয়ে ওঠেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (i)-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক (ii)-এর মমার্থ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।
