(i) আমরা ক’জন দুষ্টু ছেলের দল,
গাছের তলায় গড়েছি মোদের আস্তানা।
পাঠশালার শাসন-বারণ ভেঙেছি মেলা,
বড় দীঘির পানিতে ভাসিয়েছি ভেলা।
(ii) নুন আনতে পান্তা ফুরোয়,
চাল আনতে ডাল,
মাসের মধ্যেও কেনা হয়ে ওঠে না;
আদা পেঁয়াজ আর ঝাল।
'রোয়াক' হলো ঘরের সামনের খোলা জায়গা বা বারান্দা।
স্বামী হরিহরের মুখে দশঘরার এক অবস্থাপন্ন লোকের প্রস্তাব শুনে আগ্রহে স্ত্রী সর্বজয়ার কথা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর রায়বাড়িতে গোমস্তার কাজ করে এবং বিভিন্ন লোকের বাড়িতে পূজা করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছিল। ব্রাহ্মণ হওয়ায় দশঘরার এক অবস্থাপন্ন সদগোপ তাকে তাদের গ্রামে গিয়ে বাস করতে বলে। বসতবাড়ির পাশাপাশি ধানের জমিও দিতে চায় তারা। হরিহর এই কথা স্ত্রী সর্বজয়াকে বললে আগ্রহের আতিশয্যে তার কথা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলো।
উদ্দীপক (ⅰ)-এ 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ শিশুর আনন্দপূর্ণ শৈশবের চিত্র ধরা পড়েছে।
গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতি তার রূপসুধা উন্মুক্ত করে দেয় সবার জন্য। সেখানে সবাই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠার সুযোগ পায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। তবে এ বিষয়টি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করে শিশুরা। তারা মুক্ত বিহঙ্গের মতো প্রকৃতির কোলে আনন্দিত জীবন কাটায়।
উদ্দীপক (i)-এর দুষ্টু ছেলেদের আনন্দিত জীবনের কথা বলা হয়েছে। শাসন-বারণের বাঁধ ভেঙে, দিঘির জলে ভেলা ভাসিয়ে আনন্দে মেতেছে তারা। এমনই এক আনন্দঘন জীবনের ছবি ভেসে উঠেছে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পটিতে। গল্পে গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান বর্ণিত হয়েছে। অপু ও দুর্গা প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা দুই ভাই-বোন। তারা উভয়ে গ্রামীণ ফলফলাদি কুড়িয়ে, বনেবাদাড়ে ঘুরে বেরিয়ে আনন্দপূর্ণ শৈশব কাটিয়েছে। এ চিত্রই উদ্দীপক (i)-এ ধরা পড়েছে।
উদ্দীপক (ⅱ)-কে ছাপিয়ে উদ্দীপক (i)-এর ভাবার্থ যেন 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে প্রাধান্য বিস্তার করেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে ধনী-দরিদ্র সব শ্রেণির মানুষ বসবাস করে। সেক্ষেত্রে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সবার জীবনেই আসে। কেউ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে থেকেও জীবনের আনন্দ খুঁজে পায়। দরিদ্রতাকে জয় করে সে পরম আনন্দে দিন কাটায়।
উদ্দীপক (i)-এ একদল প্রাণচঞ্চল শিশুর আনন্দময় জীবনের ছবি ভেসে উঠেছে। তারা বাঁধনহারার দল। সব বাধা পেরিয়ে তাদের জীবনে আনন্দ এসে ধরা দিয়েছে যেন প্রকৃতির হাত ধরে। অন্যদিকে উদ্দীপক (ii)-এ জনৈক ব্যক্তির নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা।
দরিদ্র জীবনের ছায়াপাত ঘটেছে এখানে। এখানে আলোচ্য আনন্দিত জীবন' ও 'দরিদ্র জীবন' উভয়ই ফুটে উঠেছে 'আম-আঁটির ভেঁপু গল্পে। তবে উদ্দীপক (i) অংশটির মতো আনন্দময় শৈশবটি অপু-দুর্গার জীবনে মুখ্য হয়ে উঠেছে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে অপু ও দুর্গার আনন্দিত জীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাদের জীবনে দারিদ্র্যের কশাঘাত থাকলেও কখনই আনন্দ মিলিয়ে যায়নি। প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়িয়ে, প্রকৃতির ফলফলাদি আহরণ করে প্রকৃতি ঘনিষ্ঠ এই দুই শিশু তাদের জীবনকে উপভোগ করেছে পরম আনন্দে। দারিদ্র্যকে ছাপিয়ে অপু ও দুর্গার আনন্দিত জীবনের এই কাহিনিই প্রাধান্য পেয়েছে আলোচ্য গল্পে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
