জীবিকার তাগিদে মেঘনা আর মানিকের মা সেই ভোরবেলায় বেরিয়ে যায়। কয়েক বাসায় কাজ করে তবেই বাড়ি ফেরে। তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে।
এদিকে বোনকে নিয়ে মানিক সারাদিন মাঠে-ঘাটে, বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। নাওয়া-খাওয়ার কোনো খবর নেই। কখনো নদীর ধারে কাশবনে হারিয়ে যাওয়া, কখনো বা খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়ানো তাদের কাজ। বাড়ি ফিরেও মলিন বিছানায় শুয়ে ভাই-বোনের সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর গল্পই চলে সারাক্ষণ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আম খাওয়ার কথা মায়ের কাছে প্রকাশ করে দেওয়ায় দুর্গা অপুকে 'লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর' বলেছিল।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের দুর্গা মাকে না জানিয়ে পটলিদের আম বাগান থেকে কচি আমের গুটি কুড়িয়ে এনেছিল। এগুলো সে অপুকে নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে মাখিয়ে খায়। কিন্তু অপু তা অসাবধানতাবশত মায়ের কাছে প্রকাশ করে ফেলে। এজন্য দুর্গা অপুকে 'লক্ষ্মীছাড়া বাঁদর' বলেছিল।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহর দরিদ্র ব্রাহ্মণ। রায়বাড়িতে মাসিক আট টাকা বেতনে গোমস্তার চাকরিতে তার সংসার চলে না। স্ত্রী সর্বজয়া-এর তার কাছে ধার-দেনা করে কোনোভাবে সংসার-সচল রাখে। তাদের দুটি সন্তান অপু-দুর্গাকে পরনের কাপড়ও সময় মতো দেওয়া হয়ে ওঠে না। তাদের থাকার ঘরবাড়ি জীর্ণ-শীর্ণ। অভাবের কারণে নিচু জাত সঙ্গোপদের মন্ত্র দিতে সর্বজয়া তার স্বামী হরিহরকে রাজি হতে বলে। কারণ রাধা বোষ্টমের বউয়ের তাগাদায় সে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে একটি অভাবের সংসারের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে জীবিকার তাগিদে মেঘনা আর মানিকের মায়ের অন্যের বাসায় কাজ করার কথা বলা হয়েছে। তিনি কয়েক বাসায় কাজ করেও সংসারের অভাব দূর করতে এবং তিন বেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খান। তার এই দারিদ্র্যের দিকটি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা থাকলেও হরিহর-সর্বজয়ার সংসারে লক্ষ্মী নেই। হরিহরকে সদ্গোপরা কিছু ধানের জমি দিবে এবং থাকার ব্যবস্থা করবে শুনে হরিহর ও সর্বজয়া সেখানে যাওয়ার কথা ভাবে। এভাবে উদ্দীপকের প্রথম অংশের সঙ্গে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের হরিহরের সংসারের দারিদ্র্যের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পবিরারে জন্ম নেওয়া গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুটি শিশুর যে জীবনালেখ্য তুলে ধরেছেন তার সঙ্গে গভীর মিল থাকায় “উদ্দীপকের ২য় অংশে প্রতিফলিত দিকটিই 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের উপজীব্য বিষয়।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের। আনন্দময় শৈশবের পরিচয় তুলে ধরেছেন। এই দুই ভাই-বোন মানুষের চিরায়ত শৈশবের প্রতীক। দুই ভাই-বোনের মধ্যে কারণে অকারণে খুনশুটি হলেও পরক্ষণেই তা তারা ভুলে যায়। তারা মনের আনন্দে গ্রামের ঝোপ-ঝাড়ে ছুটে বেড়ায়। ফলমূল সংগ্রহ করে খায়। সারা দিন বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য মায়ের বকুনি খেলেও তাদের দুরন্তপনা থামে না।
উদ্দীপকের ২য় অংশে মানিক ও তার বোন মেঘনাকে নিয়ে সারা দিন মাঠে-ঘাটে, বনেবাদাড়ে ঘুরে বেড়ায়। নাওয়া-খাওয়া ভুলে তারা নদীর ধারে কাশবনে ঘোরে, কখনো খোলা মাঠে ঘুড়ি ওড়ায়। তারা ইচ্ছামতো সারা গ্রামে ছুটে বেড়ায়। আপন মনে খেলা করে। বাড়ি ফিরে সারা দিন ঘুরে বেড়ানোর গল্প করে। তাদের এই ছুটে বেড়ানো এবং 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু ও দুর্গার ছুটে বেড়ানো একসূত্রে গাঁথা।
মেতে থাকে। 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোন অপু ও দুর্গা। তারা প্রকৃতির নানা বস্তুর সঙ্গে মিলেমিশে হাসি-আনন্দে গল্পে এই দুই ভাই-বোনের কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের ২য় অংশে। এভাবে উদ্দীপকের মেঘনা আর মানিক গল্পের অপু ও দুর্গার সার্থক প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
