ছোটো ছেলেটার কয়দিন থেকে ভীষণ জ্বর। ছমিরন হাঁসের কয়েকটা ডিম বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করালেও এখন আর সেই সামর্থ্যও নেই। প্রতিবেশী নবিছনের কাছে ধার নেবে কেমন করে- আগের ধারটাই তো শোধ হয়নি।
হরিহর রায়ের জ্ঞাতি-ভ্রাতার নাম নীলমণি রায়।
"আজকাল চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা" বলতে বোঝানো হয়েছে-চাষারা নিয়মিত জমিতে ফসল ফলায়, ফলে তাদের অন্নাভাব হয় না।
চাষা মানেই চাষ করার সঙ্গে যার নিবিড় সম্পর্ক। আর চাষ করা মানেই ফসলের উৎপাদন। যারা ফসল উৎপাদন করে, তাদের থাকে গোলাভর্তি ধান, সে ধান তারা সারা বছর খায়। তাদের ঘরে খাবারের বিশেষ অভাব হয় না। অন্নের দেবী হিসেবে লক্ষ্মীকে গণ্য করা হয়। প্রশ্নোক্ত লাইনে চাষাদের ঘরে লক্ষ্মী বাঁধা বলতে খাবারের মজুদকেই বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার দারিদ্র্যক্লিষ্ট সংসার জীবনের অভাব-অনটনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়া দারিদ্র্যপীড়িত পল্লিমায়ের শাশ্বত রূপ। ধার-দেনা করে সে সংসার চালায়। তার ছেলের কাপড় ছেঁড়া, এটা নিয়ে তার মনে দুঃখের শেষ নেই।
উদ্দীপকের ছমিরনের মাঝে দারিদ্র্যপীড়িত গ্রামীণ জীবনের অভাব-অনটনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। হতদরিদ্র ছমিরনের ছেলে অসুস্থ, অথচ ছেলের চিকিৎসার কোনো টাকা নেই। ধার করারও সুযোগ নেই কারণ আগের ধারই সে শোধ করতে পারেনি। বিষয়টি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার দারিদ্র্যপীড়িত সংসারের অভাব-অনটনের দিকটি তুলে ধরেছে।
উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের অপু-দুর্গার শৈশবের আনন্দঘন দিকটি প্রকাশিত না- হওয়ায় "উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল বিষয়টি অনুপস্থিত।”- উক্তিটি যৌক্তিক।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল প্রতিপাদ্য প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠা অপু-দুর্গার আনন্দিত জীবনাখ্যান। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও দারিদ্র্য তাদের আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি।
উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে হতদরিদ্র মাতা ছমিরনের অভাব-অনটনে সংসারজীবনের আখ্যান। সে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছে না দারিদ্র্যের কশাঘাতের কারণে। বিষয়টি 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের সর্বজয়ার দারিদ্র্যপীড়িত সংসারজীবনের গৌণ দিকের ধারক।
'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পে লেখক শিশুর আনন্দপূর্ণ শৈশব ও প্রকৃতির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা অপু-দুর্গার গ্রামীণ বিচিত্র ফলফলাদি খাওয়ার আনন্দ ও বিচিত্র বিষয় নিয়ে তাদের কৌতূহল চিরায়ত শৈশবকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। দরিদ্র সংসার জীবনের উল্লেখ থাকলেও তা প্রধান হয়ে ওঠেনি এ গল্পে। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকে 'আম-আঁটির ভেঁপু' গল্পের মূল বিষয়টি অনুপস্থিত"-মন্তব্যটি যৌক্তিক।
