বৃদ্ধ রজব আলির বাড়ির চাকর শহিদুল। একদিন মনিবের টাকা চুরি করে সে ছেলেকে বিদেশে পাঠায়। রজব আলির মৃত্যুশয্যায় শহিদুল অনুতপ্ত হয়ে তাঁর নিকট সব কথা খুলে বললে রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ, এতেই আমি খুশি।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' রচনাটি 'মরু ভাস্কর' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের যত মানবিক গুণাবলি রয়েছে তার মধ্যে ক্ষমা অন্যতম। মহৎ ও উদার ব্যক্তিরা ক্ষমাশীল হন। তাঁরা অন্যের দোষগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। এ কারণে তাঁরা সকলের কাছে সম্মানিত হন।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবিক গুণাবলির প্রকাশ ঘটেছে। ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে গিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.) অজস্র নির্যাতন সহ্য করেন। কিন্তু তিনি কখনো কাউকে আঘাত করেননি, কাউকে অভিশাপ দেননি। তাদের ক্ষমা করে ভাই বলে বুকে টেনে নিয়েছেন। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই রজব আলি চরিত্রে এই ক্ষমাশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। রজব আলির চাকর শহিদুল তাঁর কাছে টাকা চুরির অপরাধ স্বীকার করলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। রজব আলি শহিদুলকে বুকে জড়িয়ে নেন। তাই আমরা বলতে পারি যে. উদ্দীপকের রজব আলি চরিত্রে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্দে উল্লিখিত মহানবি (স.)-এর ক্ষমাশীল গুণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা গুণটির বাইরে মহানবি (স.)-এর আরও গুণের সমাবেশ পঠিত প্রবন্ধে রয়েছে। বক্তব্যটি যথার্থ।
এই পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মানুষ বাস করে। এদের মধ্যে যেমন রয়েছে স্বার্থপর, অহংকারী মানুষ তেমনি রয়েছে মহৎ, বিনয়ী, নম্র ও নিরহংকারী মানুষ। তাঁদের জন্য পৃথিবী, সমাজ ও সংসার হয় সুন্দর।
উদ্দীপকে চুরির কথা স্বীকার করায় চাকর শহিদুলকে রজব আলি ক্ষমা করে দিয়ে ক্ষমার মহত্ত্ব স্থাপন করেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধেও আমরা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অসাধারণ ক্ষমাশীলতার কথা জানতে পারি। কিন্তু এই একটিমাত্র গুণের কথা ছাড়াও আলোচা প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও মহৎ গুণাবলি যেমন- মানবপ্রেম, সত্যনিষ্ঠা, দয়া, পরোপকারিতা ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে রজব আলি শহিদুলকে ক্ষমা করে ক্ষমার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন, যা মহানবি (স.)-এর একটি গুণের প্রকাশ ঘটায়। অন্যদিকে আলোচ্য প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর আরও অনেক গুণের সমাবেশ ঘটেছে, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই আমরা বলতে পারি যে, প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ।
