অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
সাইমুম ঝড়ে। পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক’ নুয়ে,
ঊর্ধ্বের যারা- পড়েছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।
শত প্রলোভন বিলাস বাসনা ঐশ্বর্যের মদ
করেছে সালাম দূর হতে সব ছুঁইতে পারেনি পদ।
'পুলকদীপ্তি' অর্থ আনন্দের উদ্ভাস।
মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবন পৃথিবীর সমস্ত মানুষের জন্য আদর্শ। উন্নত চরিত্র ও মানবীয় গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে প্রিয়। তাঁর মতো মহৎ গুণসম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে বিরল।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে দেখা যায় হযরত মুহম্মদ (স.) নিজেকে সব সময় একজন সাধারণ মানুষ মনে করতেন। তিনি ইচ্ছে করলেই অনেক। প্রাচুর্য ও ভোগবিলাসের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে পারতেন। অথচ তিনি তা করেননি। তিনি রাজা বা সম্রাট নন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, তিনি খুব সাধারণ একজন মানুষ। তিনি স্বেচ্ছায় দারিদ্র্যের কণ্টক মুকুট ধারণ করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এমনই আড়ম্বরহীন জীবনযাপনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে একজন মহান নেতা অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন ধুলার সিংহাসনে বসে। সাইমুম ঝড়ে যার ঘর বারবার ভেঙে গেছে। শত ঐশ্বর্য, বিলাস তাঁকে প্রলোভিত করলেও তাঁকে কিছুই ছুঁতে পারেনি। তাই বলা যায় যে, অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিক দিয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সাথে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকের চেয়ে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ভাব অধিকতর গভীর ও ব্যাপক।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা মানুষের মানবীয় গুণ। এসব গুণ একজন মানুষকে মহান করে তোলে। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করা ব্যক্তিই সৃষ্টির সেরা জীব।
উদ্দীপকে একজন নেতার অনাড়ম্বর জীবনযাপনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। শত ঐশ্বর্য আর বিলাসী জীবন ভোগ করার সুযোগ থাকার পরও তিনি একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেছেন। কোনো লোভ-লালসা তাকে ছুঁতে পারেনি। এই বিষয়টি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে। তিনিও আড়ম্বরহীন জীবনযাপন করেছেন। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আলোচ্য প্রবন্ধে তাঁর মৃত্যু সংবাদে মদিনাবাসীর শোক, ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়া, শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া ইত্যাদি বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার হযরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনযাপনের একটি দিক প্রকাশ পেয়েছে মাত্র। এ বিষয়টি ছাড়াও তাঁর জীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। তিনি ছিলেন মহৎ, ক্ষমাশীল, মানবিক, সহনশীল, সৎ ও উদার। তার এসব বৈশিষ্ট্য আলোচ্য প্রবন্ধে অধিকতর গভীর করে তুলেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
