যে গেছে বুকেতে আঘাত হানিয়া তার লাগি আমি কাঁদি;
যে মোরে দিয়েছে বিষেভরা বাগ
আমি দেই তারে বুকভরা গান;
কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর,
'পরহিতব্রতী' অর্থ পরের উপকারে নিয়োজিত।
মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রেমময়তা ও ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
পৃথিবীতে প্রেমই একমাত্র শক্তি, যার মাধ্যমে চিরশত্রুও মিত্রে পরিণত হয়। মানুষে মানুষে প্রেমের বন্ধনেই নির্মিত হয় সুন্দর সমাজ। যুগে যুগে মহামানবেরা এই প্রেমের বাণীই মানবসমাজে পৌছে দিয়েছেন।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির একটি হলো ক্ষমাশীলতা। তিনি মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, মানুষের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায় বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন। যারা তাঁকে বারবার আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে তাদেরকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও তিনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও সেই ক্ষমা ও প্রেমবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি সারা জীবন শত্রুর কাছ থেকে বিষেভরা বাণ পেয়েও বিনিময়ে বুকভরা গান দিয়েছেন। তাকে আপন করতে ব্যাকুল হয়েছেন, যে তাঁকে পর করে দিয়েছে। তিনি ক্ষমা করে প্রেম দিয়ে শত্রুতা জয় করতে চেয়েছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের এই প্রেমময়তা 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.)-এর প্রেমময়তা ও ক্ষমাশীলতার দিকটির প্রতিফলন।
না. উদ্দীপকটি 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সমগ্র ভাবকে ধরণ করে না, আংশিক ভাব ধারণ করে।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। তাঁর চরিত্রে প্রেম, ক্ষমা, মহত্ত্ব, মহানুভবতার মতো অজস্র গুণের সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি শত্রুকেও বুকে টেনে নিয়ে মানবপ্রেমের হনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
উদ্দীপকে মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের অন্যতম একটি দিকের পরিচয় ফুটে উঠেছে। এখানে কবি প্রেমের বাঁধনে চরম শত্রুকেও জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে নেন। কবির বুকে যে আঘাত করে, তাকে কবি নিজের বুকে আগলে আপন করে নেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.)ও এভাবে শত্রুকে আপন করে নিয়েছিলেন। যারা তাঁর পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তিনি তাদের পরম মমতায় বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তাদের ভালোবেসে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন সর্বগুণের আধার। ক্ষমা, দয়া, পরোপকারিতা, প্রেম প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যে তাঁর চরিত্র ছিল মহিমান্বিত। উদ্দীপকের কবিতাংশে শুধু কবির প্রেমময় হৃদয়ের গুণটি প্রকাশ পেয়েছে, যা হযরত মুহম্মদ (স.)-এর অজস্র গুণাবলির মধ্যে একটি, আর তা হলো ক্ষমাশীলতা। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'হযরত মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের সামগ্রিক ভাব নয়, আংশিক ভাব ধারণ করে।
