একদা রাতে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন ঘুমাচ্ছিলেন। মাঝরাতে একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখলেন তার ঘরে একজন অপরিচিত লোক ঢুকেছে। মুহসীন বললেন, “কে তুমি? আমার ঘরে কেন প্রবেশ করেছ?” লোকটি সভয়ে বলল, “আমি তিন দিন ধরে কিছু খাইনি, আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা নাই।” মুহসীনের দয়া হলো। তিনি লোকটিকে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করলেন।
সকলের মহাযাত্রা সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দিকে।
মহানবি (স.) মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ। কারণ তিনি মানবিক গুণাবলির দিক দিয়ে এক ব্যতিক্রম আদর্শ, যা অন্য কোনো মানুষের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় না।
হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মানুষের নবি। তিনি বিপুল ঐশ্বর্য, ক্ষমতা, মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেও একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে গেছেন। মহত্ত্ব, প্রেম, দয়া, সাধুতা, ত্যাগ তাঁর অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে প্রধান। তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, ক্ষমা ও সৌজন্যের আদর্শ। একজন মানুষের মধ্যে একসঙ্গে এত গুণের সমাবেশ অতি দুর্লভ। তিনি মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। মানবসভ্যতার ইতিহাসে মহানবি (স) অত্যন্ত অসাধারণ চরিত্র। তাই বলা হয়েছে, মহানবি (স.) মানুষের মধ্যে একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকান্ডে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
আমাদের সমাজে এমন কিছু দানশীল ও মহান মানুষ থাকেন যারা নিজেদের ধন-সম্পদ এই অসহায়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন। কখনো কখনো নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বাদ দিয়ে তারা অসহায় মানুষকে সাহায্য করে থাকেন।
উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীন মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন তার ঘরে অপরিচিত লোক ঢুকেছে। লোকটির পরিচয় জানতে চাইলে সে বলে, সে তিনদিন ধরে কিছুই খায়নি, তার কাছে কোনো টাকা পয়সাও নেই। তিনি তাকে ক্ষমা করে টাকা-পয়সা দিয়ে বিদায় করলেন। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও এই ক্ষমা ও সহমর্মিতার গুণাবলি ফুটে উঠেছে। ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে গিয়ে তিনি অজস্র নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে তাদের ক্ষমা করে বুকে টেনে নিয়েছেন। অসহায় মানুষদের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীনের কর্মকাণ্ডে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রতিফলিত দিকটি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের সমগ্রতাকে ধারণে সক্ষম নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা, ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি মানুষের মানবীয় গুণ। এসব গুণ একজন মানুষকে মহান করে তোলে। মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই একজন সত্যিকারের মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয়।
উদ্দীপকের হাজী মুহম্মদ মুহসীন গভীর রাতে তার ঘরে একজন অপরিচিত লোককে দেখেও তার প্রতি দয়া দেখান। অসহায়, অভুক্ত লোকটিকে তিনি টাকা দিয়ে বিদায় করে দেন। এখানে তার চরিত্রে ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতার দিকটি ফুটে উঠেছে। ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও এই গুণাবলি বিদ্যমান ছিল; তিনিও তার শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়ে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। তবে প্রবন্ধে আরও বহু গুণ ও ভাবধারা ফুটে উঠেছে- যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। ক্ষমাশীলতা ও সহমর্মিতা ছাড়াও তাঁর চরিত্রের সত্যবাদিতা, ধৈর্যশীলতা, আমানত রক্ষা প্রভৃতি মহৎ গুণের উল্লেখ রয়েছে- যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির বহু দিক তুলে ধরা হয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। যেমন- সত্য প্রচার করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতন ভোগ করেও মহানবি (স.)-এর সুমহান ব্যক্তিত্ব, মানবিক চেতনা এবং মানুষকে সঠিক-সত্যের পথে চলার দিকনির্দেশনা- এসবই প্রবন্ধে চমৎকারভাবে এসেছে। তাছাড়া তাঁর মৃত্যুতে সাহাবিদের ভেঙে পড়ার বিষয়টিও প্রবন্ধে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, প্রশ্নে প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
