উদ্দীপক-(i):
পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও
তার মতো সুখ আছে কি কোথাও?
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।
উদ্দীপক-(ii):
যে আমায় দুঃখ দিল
সে যেন চিরসুখী হয়।
'ধী' শব্দের অর্থ বুদ্ধি।
'এদের জ্ঞান দাও 'প্রভু, এদের ক্ষমা কর'- কথাটি দ্বারা মূলত হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভবতা ও ক্ষমাশীলতার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবমুক্তির কান্ডারি মুহম্মদ (স) ছিলেন ক্ষমার মূর্তপ্রতীক। সত্যের পথে অবিচল থাকতে গিয়ে তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে নানা গঞ্জনা ও ও প্রহার। মক্কার পথে-প্রান্তরে নগরবাসীরা তাঁকে নানাভাবে উপহাস করত। পৌত্তলিকদের প্রস্তরাঘাতে তিনি জর্জরিত হয়েছেন বারবার। তারপরও তাঁর মনের মধ্য থেকে কখনো প্রতিশোধের রূপ বের হয়ে আসেনি। উলটো তিনি তাদের হয়ে প্রভুর কাছে ক্ষমা ও জ্ঞান প্রার্থনা করেছেন। মূলত প্রশ্নোক্ত কথাটির মধ্য দিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভবতা ও ক্ষমাশীলতার পরিচয় প্রতীয়মান হয়েছে।
উদ্দীপক (i)-এ 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের যে দিকটি ফুটে উঠেছে সেটি হলো মানবকল্যাণের জন্য আত্মোৎসর্গকারী মানসিকতা।
পরার্থপরতা মানব চরিত্রের একটি বিশেষ গুণ। এই পৃথিবীতে কেউ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে আসেনি। পরের কারণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিলে তবেই মানবজীবন সার্থক হয়।
মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন পরার্থে আত্মোৎসর্গকারীর অন্যতম দৃষ্টান্ত। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক এই বিষয়টিই তুলে ধরেছেন। সত্য প্রচার ও মানবকল্যাণে ব্রতী মুহম্মদ (স.) তাঁর পুরো জীবন ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণে। অনেক সময় সত্য প্রচার করতে গিয়ে তিনি শত্রুর দ্বারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছেন। আবার অনেক সময় শত্রুর প্রস্তারাঘাতে জর্জরিত হয়েছেন। তারপরও তিনি তাঁর সত্যের প্রচার থেকে পিছপা হননি। কারণ তিনি জানতেন যে, এই সত্যের মধ্যেই মানবজাতির কল্যাণ নিহিত। যেভাবেই হোক তাঁকে এই সত্যের প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে। নিজের কথা না ভেবে তিনি মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। উদ্দীপকেও এই মানবের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা মূলত আলোচিত প্রবন্ধের মূল সুর।
"উদ্দীপক (ⅱ)-এর অন্তর্নিহিত ভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.) চরিত্রের একান্ত অনুভূতিরই প্রতিফলন"- কথাটি যথার্থ।
মানব চরিত্রে যেসব গুণের সন্নিবেশ থাকে সেগুলোর মধ্যে ক্ষমার চেয়ে বড়ো মহানুভবতা অন্য কিছুই হতে পারে না। ক্ষমাশীলতাই পারে মানুষের মধ্যকার হিংসাবৃত্তিকে ধ্বংস করে মানুষে মানুষে সৌহার্দ বজায় রাখতে। ক্ষমাশীলতার গুণটি থাকলে যুদ্ধ-বিগ্রহ, হানাহানি কোনোকিছুই হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন মহানুবভতার মূর্তপ্রতীক। 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধে আমরা সেই বিষয়টিই দেখতে পাই। সত্য প্রচারে ব্রতী মুহম্মদ (স.) পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। তায়েফে সত্য প্রচার করতে গিয়ে শত্রুর প্রস্তরাঘাতেও তাঁর মধ্যে একবিন্দু প্রতিহিংসাপরায়ণতা দৃষ্টিগোচর হয়নি। তিনি বরং তাদের জন্য প্রভুর কাছে ক্ষমা ও জ্ঞান প্রার্থনা করেছেন। এভাবে প্রবন্ধজুড়ে মুহম্মদ (স.) চরিত্রের মহানুভবতার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপক (ii)-এ যে বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে সেটিও মহানুভবতাকেই ইঙ্গিত করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে যার দ্বারা কষ্ট পেয়েছে তারই মঙ্গল কামনা করা হয়েছে, যা মহানুভবতার পরিচয়। আর মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রে মহানুভবতার প্রকাশ ছিল সর্বাবস্থায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপক (ii)-এর অন্তর্নিহিত ভাব 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের হযরত মুহম্মদ (স.) চরিত্রের একান্ত অনুভূতিরই প্রতিফলন।
