ক = সবুজ ঘাস → ফড়িং (X)→ ব্যাঙ → সাপ → গুঁইসাপ
খ = শৈবাল→ ছোটো মাছ→ বাজপাখি
প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা বা জীবাশ্ম বিজ্ঞান।
মানুষের প্রজাতি sapiens বলার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-মানুষের কপাল চওড়া এবং খাড়া, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত হওয়ার কারণে মানুষের প্রজাতি sapiens.
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' ও 'খ' নং খাদ্যশিকল হলো যথাক্রমে-ফড়িং ব্যাঙ সাপ গুঁইসাপ এবং ক = সবুজ ঘাস খ = শৈবাল → ছোটো মাছ বাজপাখি।
উপরোক্ত খাদ্যশিকল দুটির মধ্যে 'ক' খাদ্যশিকলটি বড়ো এবং 'খ' খাদ্যশিকলটি হলো ছোটো। আমরা জানি, খাদ্যশিকলের স্তর যত বড়ো হয় সেখানে শক্তির অপচয় রা ব্যয় ততো বেশি হয়। সেক্ষেত্রে 'ক' খাদ্যশিকলটিতে রয়েছে পাঁচটি খাদ্যস্তর। এ খাদ্যশিকলটির প্রতিটি স্তরেই কিছু শক্তি ব্যয় হয়। শিকলটির উৎপাদক হিসেবে সবুজ উদ্ভিদকে খেয়ে ফড়িং যে শক্তি গ্রহণ করে তার সবটুকু দেহে সঞ্চয় করতে পারে না। কিছু শক্তির অপচয় ঘটে বা হারিয়ে যায়। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ যখন পতঙ্গকে গ্রহণ করে সেখানে কিছু শক্তির ব্যয় হয়। একইভাবে তৃতীয় স্তরের খাদক সাপ যখন ব্যাঙকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে সেখানেও কিছু শক্তির অপচয় ঘটে। আবার সর্বোচ্চ খাদক গুঁইসাপ যখন তৃতীয় স্তরের খাদক সাপ থেকে শক্তি গ্রহণ করে সেখানেও কিছু শক্তি ব্যয় হয়। কিন্তু 'খ' খাদ্যশিকলে শক্তিস্তর রয়েছে তিনটি। এখানে মাত্র দুইবার শক্তির অপচয় হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, 'খ' খাদ্যশিকল অপেক্ষা 'ক' খাদ্যশিকলে শক্তিস্তর বেশি। তাই 'ক' খাদ্যশিকল 'খ' খাদ্যশিকল অপেক্ষা অধিক শক্তি হারায়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' খাদ্যশিকলে 'X' চিহ্নিত খাদক হলো ঘাসফড়িং। খাদ্যশিকলে ঘাসফড়িং অনুপস্থিত থাকলে বাস্তুতন্ত্রে খাদ্যপ্রবাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রের সবগুলো প্রজাতির স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকা জরুরি। বাস্তুতন্ত্রের যেকোনো একটি প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটলে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়। উদ্দীপকের 'ক' খাদ্যশিকলে সবুজ ঘাস হলো উৎপাদক, 'X' চিহ্নিত ঘাসফড়িং হলো প্রথম স্তরের খাদক। ব্যাঙ দ্বিতীয় স্তরের খাদক এবং সাপ ও গুঁইসাপ যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তরের খাদক। যদি, ঘাসফড়িং অনুপস্থিত থাকে, তবে সবুজ ঘাসের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে ঘাসফড়িংকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণকারী ব্যাঙ খাদ্যের অভাবে মারা যাবে। ফলে ব্যাঙের সংখ্যা কমে যাবে। ব্যাঙের সংখ্যা কমে গেলে সাপ ও গুঁইসাপের খাদ্যাভাব দেখা দিবে, যার ফলে তাদের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। এভাবে খাদ্যশিকলের একটি স্তর থেকে খাদক বিলুপ্ত হলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যপ্রবাহ ব্যাহত হবে এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে একটি অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়।
