আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমের অভিমুখে যাওয়ার পথে দুই মাধ্যমের বিভেদতলে ক্রান্তি কোণের চেয়ে বড় মানের কোণে আপতিত হলে আলোকরশ্মির সবটুকুই দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়ে ঘন মাধ্যমে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন বলে।
কাচের পরম প্রতিসরণাঙ্ক 1.52 বলতে বোঝায় যে শূন্যমাধ্যমে বা বায়ু থেকে আলো কাচে তির্যকভাবে প্রবেশ করলে আপতন কোণের সাইন এবং প্রতিসরণ কোণের সাইনের অনুপাত 1.52।
উদ্দীপক হতে,
লেন্সের ক্ষমতা,
লেন্সের ফোকাস দূরত্ব, ?
আমরা জানি,
বা,
বা,
সুতরাং ১ম শিক্ষার্থীর লেন্সের ফোকাস দূরত্ব ।
এখানে,
উদ্দীপক থেকে দেখা যাচ্ছে যে, ২য় শিক্ষার্থীর চোখের নিকটবিন্দু 25 cm থেকে সরে গিয়ে 40 cm হয়ে গেছে।
অর্থাৎ ২য় শিক্ষার্থী দূরের জিনিস ঠিকমতো দেখতে পেলেও কাছের জিনিস দেখতে পায় না। এই ধরনের ত্রুটিকে বলে দীর্ঘদৃষ্টি। এই ত্রুটি প্রতিকারে ব্যবহৃত লেন্সটি উত্তল লেন্স। নিচে চিত্রসহ দীর্ঘ দৃষ্টি ত্রুটি দূরীকরণে উত্তল লেন্সের ব্যবহার ব্যাখ্যা করা হলো-
দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটিগ্রস্ত চোখ কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পায় না। চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব বেড়ে গেলে অর্থাৎ, অভিসারী ক্ষমতা কমে গেলে চোখে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দেয় [চিত্র-ক]। এক্ষেত্রে চোখের সামনে লক্ষ্যবস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মিগুচ্ছ চোখের লেন্সে প্রতিসরিত হয়ে রেটিনার পেছনে । বিন্দুতে মিলিত হয় [চিত্র-ক], ফলে লক্ষ্যবস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। এ চোখের নিকট বিন্দু N থেকে দূরে সরে O বিন্দুতে চলে যায় বা 25 cm এর চেয়ে অনেক বেশি। তাই এ চোখে O এর চেয়ে নিকটবর্তী স্থানের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায় না। [চিত্র-খ] চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা কমে যাওয়ার দরুন এ ত্রুটির উদ্ভব হয়। তাই এ ত্রুটি দূর করতে চোখের লেন্সের অভিসারী ক্ষমতা বাড়াতে হয়। এ জন্যে সহায়ক লেন্স হিসেবে উত্তল লেন্স ব্যবহার করা হয়।
তাছাড়া একমাত্র উত্তল লেন্সই লক্ষ্যবস্তুর চেয়েও দূরে সোজা অবাস্তব প্রতিবিম্ব গঠন করে। এক্ষেত্রে তাই চোখের লেন্সের সামনে সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে এমন ক্ষমতা তথা ফোকাস দূরত্ববিশিষ্ট উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে হবে যা স্বাভাবিক চোখের নিকট বিন্দু N-এ স্থাপিত লক্ষ্যবস্তুর বিস্ব ত্রুটিপূর্ণ চোখের নিকট বিন্দু O-তে গঠন করে। ফলে দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটিগ্রস্ত চোখ কাছের বস্তুকে দেখতে পায়।
