কোনো পদার্থকে তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল অবস্থা হতে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত করার প্রক্রিয়াকেই সস্ফুটন বলে।
ব্যাপন ও নিঃসরণের মূল পার্থক্য নিম্নরূপ-
উদ্দীপকের (ⅰ) ও (ii) নং প্রক্রিয়া হলো ভৌত প্রক্রিয়া। কারণ উক্ত প্রক্রিয়াসমূহে মৌলগুলোর শুধুমাত্র অবস্থাগত পরিবর্তন হয় কিন্তু গঠনগত পরবর্তন হয় না। আবার (iii) নং প্রক্রিয়া হলো রাসায়নিক প্রক্রিয়া। কারণ উক্ত প্রক্রিয়ায় গঠনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। যেমন-
যে প্রক্রিয়ায় এক বা একাধিক পদার্থ উপযুক্ত পরিবেশে পরিবর্তিত হয়ে এক বা একাধিক নতুন পদার্থ উৎপন্ন করে তাকেই রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। আবার একে রাসায়নিক প্রক্রিয়াও বলা হয়।
উপরিউক্ত বিক্রিয়ায় এক অণু পরিবর্তিত হয়ে দুই অণু এ পরিণত হয়, যা গঠনগত দিক দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অতএব (iii) নং প্রক্রিয়াটি একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
উদ্দীপকের (i) নং প্রক্রিয়ার মৌল আয়োডিন একটি উদ্বায়ী পদার্থ এবং (ii) নং প্রক্রিয়ার মৌল সালফার একটি কঠিন পদার্থ। উক্ত (i) ও (ii) নং প্রক্রিয়া দুইটিকে নিম্নের লেখচিত্রের সাহায্যে তুলনা করা হলো-
যে সকল পদার্থকে উত্তপ্ত করলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় তাদরেকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলে এবং এ প্রক্রিয়াকেই ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়া বলে। এখানে আয়োডিন ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ। কারণ একে উত্তপ্ত করলে তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
আয়োডিনের তাপীয় বক্ররেখায় এর দুইটি ভৌত অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। আর সালফারের বক্ররেখায় তিনটি ভৌত অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার কথা থাকলেও দুইটি পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। কারণ (ii) নং প্রক্রিয়ায় কঠিন ও তরল অবস্থার উল্লেখ আছে। আবার উদ্বায়ী আয়োডিনের বক্ররেখায় তরল ভৌত অবস্থা নেই।
অতএব, উদ্দীপকের (i) নং প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটলেও (ii) নং প্রক্রিয়ায় ভৌত ও রাসায়নিক উভয় পরিবর্তনই ঘটে।
