পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত দুইটি বিশেষ ঘটনা ও সময় নিম্নরূপ:
ঘটনা-১: ১৯১১ সাল
ঘটনা-২: ১৯১৩ সাল
প্রায় একই ধরনের ধর্মবিশিষ্ট মৌলসমূহকে একই শ্রেণিভুক্ত করে আবিষ্কৃত সব মৌলকে স্থান দিয়ে মৌলসমূহের যে সারণি বর্তমানে প্রচলিত তাই পর্যায় সারণি।
বলতে বুঝায় সোডিয়াম (Na) মৌলটির,
(i) প্রোটন সংখ্যা = 1,1
(ii) ইলেকট্রন সংখ্যা = (11 – 1) = 10
(iii) নিউট্রন সংখ্যা = (23 – 11) = 12
(iv) ভরসংখ্যা = 23
(v) পারমাণবিক সংখ্যা তথা প্রোটন সংখ্যা যেহেতু 11, তাই মৌলটি সোডিয়াম (Na)।
উদ্দীপকের ঘটনা-১ হচ্ছে ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত পরমাণু মডেল। পরমাণুর গঠন বর্ণনা ও পরমাণুর মধ্যে মৌলিক কণিকার অবস্থান সম্পর্কিত যুগান্তকারী মতবাদ প্রস্তাবিত হয় এই মডেলে। এ মডেলের গুরুত্বপূর্ণ দিক বর্ণনা করা হলো-
(i) নিউক্লিয়াস আবিষ্কার: ১৯১১ সালে রাদারফোর্ড পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন এবং এর আয়তন পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য তাও প্রমাণ করেন।
(ii) নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনের অবস্থান: রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম বলেছেন' যে, পরমাণুর কেন্দ্রে ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট একটি ভারী বস্তু রয়েছে একে নিউক্লিয়াস বলে এবং ইলেকট্রনসমূহ এই নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান।
(iii) পরমাণুর চার্জ নিরপেক্ষতা: রাদারফোর্ডই প্রথম বলেছেন যে, পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল বা নিউক্লিয়ার মডেল সৌরমডেল নামে পরিচিত।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, ১৯১১ সালটি রসায়নে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের ঘটনা-২ বোর মডেলকে নির্দেশ করে। ১৯১৩ সালে রাদারফোর্ডের মডেলের ত্রুটিগুলোকে সংশোধন করে নীলস বোর একটি পরমাণু মডেল প্রদান করেন, যা বোর পরমাণু মডেল নামে পরিচিত।
অর্থাৎ, ঘটনা-২ তথা বোর পরমাণু' মডেলটি প্রকৃতপক্ষে রাদারফোর্ড মডেলের সংশোধিত রূপ। এ মডেল দ্বারা রাদারফোর্ডের মডেলের সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। যেমন-
(i) রাদারফোর্ড মডেলে কক্ষপথের আকার সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই কিন্তু বোর পরমাণু মডেল অনুসারে কক্ষপথকে বৃত্তাকার বলে ধারণা দিয়েছে।
(ii) রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সবচেয়ে বড় ত্রুটি এতে নিউক্লিয়াসের চারপাশে ইলেকট্রনের আবর্তনকে সূর্যের চারপাশে গ্রহগুলোর আবর্তনের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কিন্তু বোর পরমাণু মডেলে এর পরিবর্তে শক্তিস্তরের ধারণা সূচিত করা হয়েছে। ফলে ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্বের সাথে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
(iii) রাদারফোর্ড মডেল ইলেকট্রনের স্থানান্তর সংক্রান্ত কোনো ধারণা দেয় না অথচ বোর মডেল এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা দেয়। তদুপরি বোর মডেল পরমাণুর বর্ণালী সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করে যদিও তা অস্পষ্ট কিন্তু রাদারফোর্ড মডেল এর ধারণা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
সুতরাং এ থেকে বলা যায় যে, বোর পরমাণু মডেল রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হলেও রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের ভুলগুলোর সংশোধিত রূপ।
