সরু ছিদ্রপথে কোনো গ্যাসের অণুসমূহের উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে।
উভমুখী বিক্রিয়ার মাধ্যমে রাসায়নিক সাম্যাবস্থা অর্জিত হয়। বিক্রিয়ার শুরুতে বিক্রিয়ক পদার্থসমূহ বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়। একইসাথে উৎপন্ন পদার্থসমূহ বিক্রিয়া করে পুনরায় বিক্রিয়কে পরিণত হয়। একসময় সম্মুখ বিক্রিয়ার হার ও পশ্চাৎমুখী বিক্রিয়ার হার সমান হয়ে যায়। তখন বিক্রিয়াটিকে স্থির বলে মনে হয়। কিন্তু এই সাম্যাবস্থায় দুটি বিক্রিয়াই আসলে সমানভাবে চলতে থাকে। সুতরাং বলা যায়, রাসায়নিক সাম্যাবস্থা একটি গতিময় অবস্থা।
উদ্দীপকের (i) ও (ii) নং দ্রবণকে মিশ্রিত করলে নিম্নরূপ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
উৎপন্ন লবণের কেন্দ্রীয় পরমাণু 'S' এর জারণ সংখ্যা নিম্নোক্তভাবে নির্ণয় করা যায়।
ধরি, -এ S-এর জারণ সংখ্যা
সুতরাং
বা,
বা,
অতএব, -এর S এর জারণ সংখ্যা = + 6 ।
উদ্দীপকের (ii) ও (iii) নং দ্রবণে (i) নং দ্রবণ পৃথকভাবে যোগ করলে সংঘটিত বিক্রিয়া একই হবে না। কারণ উক্ত (ii) ও (iii) নং দ্রবণের সাথে (i) নং দ্রবণ পৃথকভাবে যোগ করলে নিম্নোক্ত দুটি বিক্রিয়া সংঘটিত হয়।
(i)
(ii)
আমরা জানি, যেসকল বিক্রিয়ায় উৎপাদের মধ্যে যেকোনো একটি যৌগ পাত্রের তলায় অধঃক্ষেপ হিসেবে জমা হয়, সেসকল বিক্রিয়াকেই অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া বলে। সেই মতে (i) নং বিক্রিয়া একটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া, কারণ সবুজ বর্ণের অধঃক্ষেপ হিসেবে পাত্রের তলায় জমা হয়। এজন্যই (i) নং বিক্রিয়া একটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া।
আবার এসিড ও ক্ষার পরস্পরের সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রশমিত হয়ে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, আর এ বিক্রিয়াকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
সাধারণত প্রশমন বিক্রিয়ায় ও আয়নদ্বয় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। তাই (ii) নং বিক্রিয়া একটি প্রশমন বিক্রিয়া। আবার (ii) নং বিক্রিয়ার আয়নিক রূপ-
এখানে দেখা যায়, mathrm{e}^{-} এর কোনো আধান-প্রদান ঘটে নাই। সুতরাং (ii) নং বিক্রিয়া একটি প্রশমন বিক্রিয়া। অতএব, বিক্রিয়া দুইটি ননরেডক্স হলেও একটি প্রশমন ও অপরটি অধঃক্ষেপণ বিক্রিয়া।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের (ii) নং (iii) নং দ্রবণে (i) নং দ্রবণ পৃথকভাবে যোগ করলে সংঘটিত বিক্রিয়া একই হবে না।
