(i)
(ii)
(তাপীয় পরিবর্তন ধনাত্মক)
যদি দুটি যৌগের আণবিক সংকেত একই থাকে কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন হয় তবে তাদেরকে পরস্পরের সমাণু বলা হয় এবং একটি সমাণু থেকে অপর একটি সমাণু তৈরির প্রক্রিয়াকে সমাণুকরণ বিক্রিয়া বলে।
গ্যালভানিক কোষে লবণ সেতু অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর কারণ-
১. এটি দুটি অর্ধকোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. এটি দুটি অর্ধকোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি পূর্ণাঙ্গ কোষ গঠন করে।
৩. দুটি অর্ধকোষের দ্রবণের মধ্যে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখে।
৪. লবণ সেতুর কারণে কোনো তড়িৎদ্বারে অতিরিক্ত তড়িৎ আধান জমা হতে পারে না; তড়িৎদ্বারে অতিরিক্ত তড়িৎ আধান জমতে বাঁধার সৃষ্টি করে।
৫. সার্বক্ষণিক তড়িৎপ্রবাহ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটি-
বিক্রিয়াটি তাপহারী বিক্রিয়া। নিচে লা-শাতেলিয়ার নীতি অনুসারে বিক্রিয়াটির উপর তাপ ও চাপের প্রভাব বর্ণনা করা হলো-
তাপের প্রভাব: বিক্রিয়াটির তাপীয় পরিবর্তন (∆H) ধনাত্মক হওয়ায় এটি তাপহারী বিক্রিয়া। লা-শাতেলিয়ার নীতি অনুসারে, এ বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় অধিক তাপ প্রয়োগ করা হলে বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থা বাম থেকে ডানে সরে গিয়ে উৎপাদ AB এর পরিমাণ বৃদ্ধি করবে। আবার সাম্যাবস্থায় তাপ হ্রাস করা হলে বিক্রিয়ার সাম্য ডান দিক থেকে বাম দিকে সরে আসবে অর্থাৎ AB এর বিয়োজন হ্রাস পায় এবং উৎপাদের পরিমাণ কমে যায়।
চাপের প্রভাব: প্রদত্ত বিক্রিয়ায় বিক্রিয়ক এর মোট মোল সংখ্যা (1+1)=2 এবং উৎপাদের মোট মোল সংখ্যাও 2, অর্থাৎ এ বিক্রিয়ায় মোলের পরিবর্তন হয় না। জানা আছে, যে সকল বিক্রিয়ায় গ্যাসীয় অণু সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না, সে সকল বিক্রিয়াতে চাপের কোনো প্রভাব থাকে না। সুতরাং বলা যায়, এই বিক্রিয়ার সাম্যাবস্থায় চাপের কোনো প্রভাব নেই।
উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি-
উপরিউক্ত বিক্রিয়াটি সংযোজন, সংশ্লেষণ, দহন ও জারণ-বিজারণ এই চার প্রকার বিক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। নিচে যুক্তিসহ তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সংশ্লেষণ বিক্রিয়া: এ বিক্রিয়ায় K ও উভয়ই মৌলিক পদার্থ। বিক্রিয়াটিতে একাধিক মৌলিক পদার্থ যুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ তৈরি করে। কাজেই এটি সংশ্লেষণ বিক্রিয়া। একে সংযোজন বিক্রিয়াও বলা যায়। কেননা সংশ্লেষণ বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার একটি শ্রেণি। সংযোজন বিক্রিয়ায় একাধিক পদার্থ সংযুক্ত হয়ে একটিমাত্র পদার্থে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিক্রিয়ক পদার্থ মৌলিক বা যৌগিক উভয়ই হতে পারে।
দহন বিক্রিয়া: এ বিক্রিয়ায় K ধাতু এর সাথে বিক্রিয়া করে উৎপাদ তৈরি করে। এক্ষেত্রে K কে অক্সিজেনে পুড়িয়ে তৈরি হয় বলে এটিকে দহন বিক্রিয়া বলে।
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: বিক্রিয়াটিতে বিক্রিয়ক K এর জারণ মান শূন্য (0) থেকে বৃদ্ধি পেয়ে উৎপাদ যৌগ ()-এ জারণ মান+1 হয়েছে। এজন্য K এর জারণ ঘটে। অপরদিকে বিক্রিয়ক এর জারণ মান শূন্য (0) থেকে হ্রাস পেয়ে উৎপাদ যৌগে -2 হয়েছে। এজন্য এর বিজারণ ঘটে।
অর্থাৎ, বিক্রিয়াটি একটি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়াটি সংশ্লেষণ, সংযোজন, দহন এবং জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া।
