নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে।
যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। খাবার লবণ (NaCl) একটি তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য। কারণ NaCl জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয়ে ও আয়নে পরিণত হয়। এ কারণে খাবার লবণ (NaCl) কে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলা হয়।
উদ্দীপকের কোষের ও দ্রবণ দুটি যথাক্রমে ও দ্রবণ। সুতরাং এ তড়িৎ রাসায়নিক কোষটিই হলো ড্যানিয়েল কোষ অর্থাৎ গ্যালভানিক কোষ । এর ধরন নিম্নরূপ-
ড্যানিয়েল কোষের একটি পাত্রে এর জলীয় দ্রবণে ক্যাথোড হিসেবে কপার দণ্ড এবং অপর একটি পাত্রে এর জলীয় দ্রবণে আয়রন দণ্ড নেওয়া হয়। এরপর পাত্র দুটিকে পাশাপাশি রেখে লবণ সেতুর মাধ্যমে সংযোগ করলে নিম্নোক্ত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটবে-
এখন তার দিয়ে তড়িৎদ্বার দুটিকে সংযুক্ত করলেই অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে ইলেকট্রন প্রবাহের সৃষ্টি হবে। আর ইলেকট্রন প্রবাহ মানেই বিদ্যুৎ প্রবাহ। তাই ড্যানিয়েল কোষের বাইরের তারের সাথে বৈদ্যুতিক বাল্ব যুক্ত করলে বাল্বটি জ্বলে উঠবে।
উদ্দীপকের পাত্রদ্বয়ের ও এর জলীয় দ্রবণে কয়েক ফোঁটা করে লঘু NaOH যোগ করলে অধঃক্ষেপ উৎপন্ন হয়। তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো :
লঘু NaOH এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন অধঃক্ষেপ বিশ্লেষণ :
এর জলীয় দ্রবণে ফোঁটায় ফোঁটায় NaOH দ্রবণ যোগ করি। অতঃপর দ্রবণে ধীরে ধীরে সবুজ বর্ণের অধঃক্ষেপ তৈরি হচ্ছে এবং নিচে জমা পড়ছে। অর্থাৎ তরল দ্রবণ, তরল NaOH দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে কঠিন এর সবুজ অধঃক্ষেপ তৈরি করে।
ও লঘু NaOH এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন অধঃক্ষেপ বিশ্লেষণ :
এর জলীয় দ্রবণে ফোঁটায় ফোঁটায় NaOH দ্রবণ যোগ করি। অতঃপর দ্রবণে ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে সবুজাভ নীল বা ঘন নীলাভ সবুজ বর্ণের অধঃক্ষেপ তৈরি হচ্ছে এবং নিচে জমা পড়ছে।
অর্থাৎ তরল দ্রবণ ও তরল NaOH দ্রবণের সাথে বিক্রিয়া করে কঠিন এর অধঃক্ষেপ তৈরি করে।
