তাপমাত্রা স্থির থাকলে কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে যে তড়িৎপ্রবাহ চলে তা ঐ পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যের সমানুপাতিক।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহকের মুক্ত ইলেকট্রনগুলো উত্তেজিত হয়। ফলে এদের গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পরিবাহীর মধ্য দিয়ে চলার সময় অণু-পরমাণুগুলোর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে প্রবাহ চলার পথে বাধার সৃষ্টি করে। এ সময় পরিবাহী পদার্থের রোধ বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট আকার ও উপাদানের পরিবাহীর রোধ বাড়লে আপেক্ষিক রোধও বৃদ্ধি পায়। আবার আপেক্ষিক রোধের বিপরীত রাশি হলো পরিবাহকত্ব। তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর পরিবাহকত্ব কমে যায়।
বর্তনীতে ও এর রোধ ৩টি শ্রেণিতে যুক্ত।
∴ বর্তনীর তুল্যরোধ,
∴ বর্তনীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুৎ,
ও B বিন্দুর বিভব পার্থক্য,
উদ্দীপকের বর্তনীর উল্লিখিত রোধগুলো সম্বলিত উপকরণ ব্যবহার করে একটি কক্ষের বর্তনীর চিত্র নিচে অঙ্কন করা হলো:
আমাদের বাড়িতে বৈদ্যুতিক উপকরণসমূহের রোধগুলোকে সমান্তরাল সমবায়ে সংযোগ দেওয়া হয়। এ সংযোগের ফলে প্রতিটি বৈদ্যুতিক উপকরণ একই মানের বিভব সরবরাহ পেয়ে থাকে। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক বৈদ্যুতিক উপকরণসমূহের তড়িৎ প্রবাহ ভিন্ন মানের হয়। আবার আলাদাভাবে প্রতিটি উপকরণের সুইচ থাকার কারণে সুবিধামতো চালু বা বন্ধ করা যায়। এ বর্তনীতে যুক্ত আলাদা উপকরণে বিভবের মানের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে না। ফলে উপকরণসমূহ বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়ে অক্ষত থাকে। এছাড়া সুইচের আলাদা ব্যবহারে বিদ্যুতের অপচয় বন্ধে ভূমিকা রাখে। সুতরাং বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য সমান্তরাল সমবায় উপযোগী।
