গফুর মিয়া হাজির হয়েছেন রামগোপালের বাড়ি। এর আগেও বহুবার এসেছেন তিনি। বহু নামিদামি পাত্র দেখিয়েছেন। কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। অবশ্য এজন্য তাকে প্রতিবারই সম্মানি দেওয়া হয়েছে। এজন্যই তার এত গরজ। অবশেষে আজ রামগোপালের পাত্র পছন্দ হলো। কিছুদিনের মধ্যেই সারা বাড়িতে বিয়ে উপলক্ষ্যে আনন্দের মেলা বসল।
বিয়ের পাত্র হলো গোলাব।
যথাসময়ে বাহকের অনুপস্থিতির কারণেই বরপক্ষের বিপদ দেখা দিল।
বরপক্ষ বিয়েবাড়ি যাবে। কিন্তু বাহক অনুপস্থিত। বাহকের বায়না নিয়েছিলেন বাতাস। তখন হুঁ-হুম করে অনেক মর্দানি করেছিলেন কিন্তু কাজের সময় তিনি কোথায় গেলেন, কেউ খুঁজে পায় না। তিনি যথাসময়ে সেখানে উপস্থিত ছিল না বলেই বরপক্ষ বিপদের মধ্যে পড়ে যায়।
উদ্দীপকের গফুর মিয়ার সঙ্গে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ভ্রমরের সাদৃশ্য রয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে ভ্রমরকে ঘটকের ভূমিকায় দেখা যায়। সে মল্লিকা ও গোলাবের মধ্যে বিয়ের সম্বন্ধ আনে। ভ্রমর এখানে মানুষের মতো স্বার্থপরতা ও আর্থিক লাভের কথা ভাবে, যা প্রকৃতির সরলতার সঙ্গে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে ঘটকের চরিত্রে গফুর মিয়াকে দেখা যায়, যিনি বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে মেয়ের বাড়িতে আসেন। একইভাবে ছেলের বাড়িতেও যান এবং উভয় পরিবারের পছন্দ এক হয়ে গেলে বিয়ের কাজ সমাধা করেন। এটার জন্য তাকে পারিশ্রমিক দিতে হয়। কারণ এটা তার পেশা। এই একই পেশার আরেকটি চরিত্রের সাক্ষাৎ পাই 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ভ্রমরের মধ্যে। ভ্রমর মল্লিকা ফুলের জন্য পাত্রের সন্ধান নিয়ে আসে। বিয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলাব ও মল্লিকার মধ্যকার সামাজিক বন্ধন তৈরিতে একটি সক্রিয় চরিত্র হলো ভ্রমররাজ। তাই একথা বলা যায় যে, উদ্দীপকের গফুর মিয়া ও 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ভ্রমর পেশাগত দিক থেকে সাদৃশ্য বজায় রাখে।
বাঙালি সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে ঘটকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর বলে বিবেচিত হওয়ায় "গফুর মিয়া ও ভ্রমরের মতো মানুষই বিয়ের অনুষ্ঠান সার্থক করে তোলে" মন্তব্যটির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে মল্লিকা ফুলের বিয়ের জন্য ঘটকের কাজ করেছে, ভ্রমর। বিয়েতে ঘটক একজন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। মূলত সে-ই দু'পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে বিয়ের কাজ সম্পূর্ণ করে থাকে। এ গল্পে ঘটক হিসেবে এ কাজ সম্পন্ন করেছে ভ্রমর।
উদ্দীপকের গফুর মিয়া টাকার বিনিময়ে ঘটকালি করেন। তাই বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। বরং কয়েকবারের চেষ্টার পর পছন্দমতো পাত্র জোগাড় করতে সমর্থ হয়েছেন। উদ্দীপকের 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও ঘটকরূপী ভ্রমরকে দেখা যায়। সেখানেও ভ্রমর গোলাব আর মল্লিকা ফুলের বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। দুই পরিবারকে বিয়ের জন্য রাজি করিয়েছে।
ঘটক হলেন বিয়ের দূত। উদ্দীপকের গফুর মিয়া কিংবা 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ভ্রমরের মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং এ থেকে বলা যায়, ঘটকরা টাকার বিনিময়ে কাজ করলেও বিয়ে সুসম্পন্ন করে তুলতে তাদের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি। আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, গফুর মিয়া ও ভ্রমরের মতো মানুষরাই বিয়ের অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তোলে।
