মৌরি একদিন বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাবে। বাবা একদিন ওকে নিয়ে বেড়াতে গেলে সে ভীষণ খুশি হয়। নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে সে অভিভূত হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সে যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে খুবই আনন্দিত হয়। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়- বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটা বাগান করবে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে ভ্রমর ঘটকের দায়িত্ব পালন করে।
ক্ষুদ্র বৃক্ষটি ভ্রমর বা ঘটকের কথা শুনে বিরক্ত হয়েছিল।
মল্লিকা ফুলের বিয়ে দেওয়ার জন্য কন্যাকর্তা বৃক্ষ যখন উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করছিল তখন ঘটকের আগমন ঘটে। ঘটক কন্যাকে দেখে পছন্দ করে জিজ্ঞাসা করল মধুর কথা। ক্ষুদ্র বৃক্ষ বলে, ফর্দ দিবেন, সব বুঝিয়ে দেবে। সে ঘটকালিটার খরচও দিতে রাজি হলো। কিন্তু বরের কোনো খোঁজখবর না দিয়েই ঘটকালির খরচ যখন আগাম চাইল তখন ক্ষুদ্র বৃক্ষটি বিরক্ত হলো।
উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগার বিষয়টি অর্থাৎ ফুল-ফল গাছের সমারোহের বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমাহারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক প্রকৃতিকে বাস্তব জীবনের রূপকে উপস্থাপন করেছেন। মানুষের জীবন ও সমাজের গল্প বলতে গিয়ে লেখক প্রতীকায়িতভাবে তুলে ধরেছেন প্রকৃতির বিভিন্ন রকম ফুলের কথা। প্রকৃতির অজস্র ফুল-ফলের সমারোহ তাদের রূপ-রস-গন্ধের বৈচিত্র্যে মানুষকে আনন্দিত করে তোলে।
উদ্দীপকের মৌরি একদিন তার বাবার কাছে বায়না ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে যাওয়ার। সেখানে গিয়ে সে নানা জাতের ফুল-ফলের গাছের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। দীর্ঘদিন যেসব ফুল-ফলের নাম শুনেছে সেগুলো আজ নিজ চোখে দেখে সে খুবই আনন্দিত হয়। সে বাড়ির আঙিনায় ছোট্ট একটি বাগান করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার এই ভালো লাগার বিষয়টি 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও খানিকটা খুঁজে পাওয়া যায়। এই গল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলগাছ ও ফুলের পরিচয় জানা যায়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের মৌরির ভালোলাগা 'ফুলের বিবাহ' গল্পের ফুলগাছ ও ফুলের সমারোহের দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
মৌরির মধ্যে সৃষ্ট মুগ্ধতা থেকে বলা যায়, "মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় যেন ফুলের বিবাহ গল্পের মূল চেতনা" মন্তব্যটি যথার্থ।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে হাস্যরসের মধ্য দিয়ে লেখক বিভিন্ন ফুলের নাম-গন্ধ-বর্ণের তারতম্য অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। ফুল তার বিচিত্র বর্ণ, গন্ধের সমারোহে সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রকৃতিকে বর্ণবৈচিত্র্যে সাজিয়ে মানুষকে করে তোলে আনন্দিত ও প্রফুল্লিত।
উদ্দীপকের মৌরি বাবার সাথে বোটানিক্যাল গার্ডেনে বেড়াতে গিয়ে ফুলের সমারোহ দেখে অভিভূত হয়। যেসব ফুলের নাম এতদিন সে শুনেছে, আজ নিজ চোখে সেগুলো দেখে খুবই আনন্দিত হয়েছে। সে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ির আঙিনায় ছোট বাগান করার জন্য। 'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক ফুলের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে ফুলের প্রতি লেখকের মুগ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি। প্রতিটি ফুলের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী লেখক গল্পে সেগুলোর চরিত্র চিত্রণ করেছেন। ফুল যে শুধু ঘর সাজানো বা ব্যবহারের জন্য নয়, বরং তার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মুগ্ধতা, লেখক তাই প্রকাশ করেছেন।
উদ্দীপকে মৌরি ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছে এবং ফুলের প্রতি তার ভালোবাসা জন্মেছে। লেখক 'ফুলের বিবাহ' গল্পে ফুলের মুগ্ধতার বিষয়টির প্রতিই আলোকপাত করেছেন। তাই বলা যায়, মৌরির মাঝে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়াই 'ফুলের বিবাহ' গল্পের মূল চেতনা।
