সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হলো বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আয়োজিত প্যারালিম্পিক গেমসের ১৪তম আসর। এতে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে স্বর্ণপদক জয় করে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মেয়ে পারুল আস্তার। একসময় পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ অনেকেই তাকে অবহেলা ও কটাক্ষ করত। কিন্তু পারুলের অদম্য ইচ্ছা, কঠোর সাধনা ও মা-বাবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় পারুলের এ সাফল্য।
১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
সুভার পিতা-মাতা সুভার বিয়ের বিষয় নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
'সুভা' গল্পে সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ। বড় দুই মেয়ে সুকেশিনী ও সুহাসিনীকে বিয়ে দিলেও বাক্প্রতিবন্ধী বলে সুভার বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেননি। সুভার বিয়ের বয়স বেড়ে যেতে দেখে গ্রামের লোকজন নিন্দা করতে শুরু করে। মেয়ের বিয়ের জন্য সমাজ একঘরে করার হুমকি দিলে বাণীকণ্ঠ প্রচন্ড আঘাত পান। সমাজের মতে সুভা আইবুড়ো মেয়ে। এই কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন।
পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবের আচরণ 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সুভার মা ও তার সমবয়সি ছেলেমেয়ের নেতিবাচক আচরণের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত মমত্বের সঙ্গে বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার গল্প বলেছেন। সুভা কথা বলতে পারত না বলে তার সামনেই নেতিবাচক দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত সবাই। সমবয়সি বালক-বালিকারা ভয় পেত। কেউ সুভার সঙ্গে খেলত না। এমনকি সুভার মা তাকে নিজের ত্রুটি মনে করতেন। গর্ভের কলঙ্ক ভেবে সুভার ওপর বিরক্ত ছিলেন তার মা।
উদ্দীপকে প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও মা-বাবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর সাধনার ফলে একজন মেয়ের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌছার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে প্রতিবন্ধী মেয়ে পারুল আক্তারকে কী ধরনের আচরণ সহ্য করতে হয়েছে তার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রতিবন্ধী বলে পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধবসহ অনেকেই তাকে অবহেলা ও কটাক্ষ করেছে। তার দ্বারা কোনো কিছু সম্ভব নয় বলে মনে করেছে। এ বিষয়টি 'সুভা' গল্পের বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সুভার সঙ্গে সুভার মা এবং সুভার সমবয়সি ছেলেমেয়েদের আচরণের দিকটিকে নির্দেশ করে। সমবয়সিরা সুভাকে তাদের বন্ধু এবং খেলার সাথি হিসেবে গ্রহণ করত না। এ কারণে সুভা প্রকৃতির সঙ্গে মিশত। প্রকৃতি যেন তার ভাষার অভাব পূরণ করে দিত। উদ্দীপকের পারুল আক্তার যেমন সমাজের মানুষের দ্বারা অবহেলিত, তেমনই সুভাও অবহেলার শিকার হয়েছে। সুভার জন্য সমাজের লোকেরা বাণীকণ্ঠকে একঘরে করার কথাও তুলেছে। এভাবে উদ্দীপকের পারুলের পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবদের আচরণ 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সমাজের লোকদের আচরণের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপক ও 'সুভা' গল্পের আলোকে আমার মতামত হলো সুভা কারও কাছ থেকে সহানুভূতি ও সহযোগিতা পায়নি বলে "সাদৃশ্য থাকলেও সুভা পারুলের মতো হতে পারল না।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। পরিবার ও সমাজে সে ছিল অবহেলিত ও অবজ্ঞাত। কেউ তার সঙ্গে মিশত না, খেলত না, তার সামনে সবাই নেতিবাচক দুশ্চিন্তা করত তাকে নিয়ে। এমনকি সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক মনে করত। সহযোগিতা ও সহানুভূতির অভাবে সুভা বিকশিত হতে পারেনি।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী, সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে সে শৈশব থেকেই অবহেলার শিকার। সমবয়সিরা তাকে খেলায় নেয় না, তার সঙ্গে মেশে না। সুভার মা সুভাকে তার নিজের ত্রুটি মনে করেন। বাবা বাণীকণ্ঠ সুভাকে স্নেহ-মমতা দেখালেও শেষ পর্যন্ত মেয়েকে পাত্রস্থ করতে না পারায় অস্থির হয়ে ওঠেন। সুভার মায়ের কথামতো সুভার বিয়ের কথা ভেবে তাকে নিয়ে কলকাতায় হাওয়ার আয়োজন করেন। সমাজের লোকজন বাণীকণ্ঠকে একঘরে করার কথা বলতে শুরু করেছে। উদ্দীপকের পারুলের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পারুলের পাড়া-প্রতিবেশীরা পারুলের বাবাকে একঘরে করতে চায়নি। পারুলের বয়স নিয়েও কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। পারুলকে তার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে তার বাবা-মা দুজনেই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে 'সুভা' গল্পে সুভার বাবা-মা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা মেয়েকে স্বাভাবিক মানুষের মতো বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে পারেননি।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন
হয়ে প্রকৃতির কোলে আশ্রয় লাভ করেছে। অবলা পশুর সঙ্গে ভাব-বিনিময় করেছে। কথা বলতে পারা একমাত্র প্রাণী প্রতাপের সঙ্গে তার বন্ধুত্বও স্থায়ী হয়নি সে কথা বলতে পারেনি বলে। বাবার সঙ্গে কলকাতায় যাওয়ার সময় প্রতাপ তাকে বাধা দেয়নি। সে মাছ ধরার সময় নীরব সঙ্গী হিসেবেই সুভাকে গ্রহণ করেছে। পরিবার, সমাজ বা সমবয়সি কারও কাছ থেকেই সুভা সহানুভূতি বা সহযোগিতা পায়নি। এ কারণেই সে পারুলের মতো হতে পারেনি। তাই বলা যায় প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
