‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২২’-এর উদ্বোধনী আসর অনুষ্ঠিত হয় কাতারের আলবাইত স্টেডিয়ামে। মঞ্চে আসেন দুহাতে ভর দিয়ে চলা বিশ বছরের যুবক গানিম আল মুফতাহ। গানিমের সুললিত কণ্ঠে কোরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে জমকালো আসর শুরু হয়। কে এই গানিম? জন্মগতভাবেই তাঁর দুটি পা নেই। এজন্য শিশুকাল থেকে তাঁকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। তবে তাঁর মা-বাবা দুজন দুটি পা হয়ে সন্তানের সঙ্গে থেকেছেন, প্রেরণা জুগিয়েছেন। তাই তো ‘তিনি বিশ্বের দরবারে একজন মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
'বাঁখারি' অর্থ কাঁধের দুদিকে দুপ্রান্তে ঝুলিয়ে বোঝা বহনের বাঁশের ফালি।
সুভাকে নিয়ে তার পিতার বিদেশযাত্রার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাম্পে ভরে গেল।
'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বাক্ প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সেখানে সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। পিতা-মাতাকে সে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো এবং চূড়ান্ত হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
উদ্দীপকের গানিম 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী শিশুর মন, চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো
উপস্থাপন করেছেন। বাক্প্রতিবন্ধী সুভাকে মা গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে কেউ মেশে না, খেলে না। এভাবে সে নানাভাবে পরিবার ও সমাজে অবহেলা, অনাদর ও অবজ্ঞার শিকার হয় প্রতিবন্ধিতার কারণে।
'সুভা' গল্পের প্রধান চরিত্র সুভা। সে জন্ম থেকেই বোবা। তার এই শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বাবা-মা বেশ চিন্তিত থাকেন। সুভার মা সুভাকে তার গর্ভের কলঙ্ক বলে জ্ঞান করেন। সে কারও কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি পায় না। তার একমাত্র ভাষাসম্পন্ন বন্ধু ছিল প্রতাপ। তাকেও দেখা যায় সুভার অনুভূতি উপলব্ধি করতে চায় না। তার ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, সিদ্ধান্ত কোনোকিছুরই কেউ মূল্য দেয়। উদ্দীপকের গানিমকেও দেখা যায় যে জন্মগতভাবে তাঁর পা দুটি নেই। এজন্য শিশুকাল থেকেই তাকে পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতার জন্য তিনিও সমাজে কারও কাছ কোনো মূল্য পেতেন না। সমাজ তাকেও সব সময় ছোট ও হীন জ্ঞান করত। এভাবে উদ্দীপকের গানিম 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সামাজিক বঞ্চনার দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকের গানিমের মতো প্রেরণা পেলে 'সুভা' গল্পের সুভার অবস্থারও পরিবর্তন হতো।"- সকলের তাচ্ছিল্য ও অবহেলায় সুভা নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করে গুটিয়ে নিয়েছে, বিকশিত হয়নি- এই বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভাকে তার মা গর্ভের কলঙ্ক মনে করে তার প্রতি বিরক্ত ছিলেন। সবাই তার সামনে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত। তাই সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভেবে সাধারণের দৃষ্টিপথ থেকে গোপনে বা আড়ালে থাকতে চেষ্টা করত। এভাবে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, ফলে তার পরিপূর্ণ বিকাশ হয় না। এজন্য সাধারণ বালক-বালিকারা তাকে ভয় পেত, তার সঙ্গে খেলত না। এসব কারণে সুভা তার প্রতিবন্ধিতাকে অতিক্রম করে উঠতে সক্ষম হয়নি।
উদ্দীপকে জন্ম থেকেই গানিমের দুটি পা নেই। এজন্য শিশুকাল থেকে তাঁকে পদে পদে নানা লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। তাঁর বাবা-মা দুজনে পানিমের দুটি পা হয়ে তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন, অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। যার ফলে বিশ্ব দরবারে তিনি আজ মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। আর পরিবার তাঁর পাশে ছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।
'সুভা' গল্পে সুভা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবার তাকে প্রেরণা না জুগিয়ে বরং আরও বোঝা মনে করেছে। সুভার মা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন অথচ তারা যদি তার আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেস্টা করতেন তাহলে সমাজও তাকে নিন্দা করত না। আবার সমাজ নিন্দা না করলে তার বাবা-মায়ের কাছেও এতটা বোঝা মনে হতো না। 'সুভা' গল্পে সুভা পরিবারের অবহেলার শিকার। স্বাভাবিক মানুষের মতো তার সঙ্গে কেউ আচরণ করেনি। প্রতাপও সুভাকে বুঝতে চায়নি। অথচ সুভা সবকিছুই অনুধাবন করতে পারত। এমনকি প্রেরণা পেলে সুভার কোনো সুপ্ত প্রতিভাও হয়তো বিকশিত হতে পারত। উদ্দীপকের পানিমের মতো প্রেরণা পেলে 'সুভা' গল্পের সুভার অবস্থারও পরিবর্তন হতো। তাই বলা যায়, মন্তব্যটি যথার্থ।
