শৈশবে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে হুমায়রা। বাবা-মা তাকে দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পড়াশোনা করে সে আজ দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক। সে এখন সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ।
সুভার গ্রামের নাম চণ্ডীপুর।
কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না। কারণ কালো চোখের মাধ্যমে মানুষের মনের ভাবের প্রতিফলন ঘটে থাকে।
মানুষের ভাব প্রকাশ হলো ভাষা। মানুষ বলে, লিখে এবং ইশারায় মনের ভাব প্রকাশ করে। মানুষের চোখেরও একটা ভাষা আছে। তা চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। 'সুভা' গল্পের সুভার কালো চোখের দিকে তাকালে তা বোঝা যেত। সুভার বড়ো বড়ো কালো চোখের যে ভাষা, যে উজ্জ্বলতা তাতে অবর্ণনীয় ভাবের প্রকাশ ঘটত। তার দিকে তাকালে সেই ভাষা আর কোনো তর্জমা করার দরকার হতো না। তার চোখ দুটোই কথা বলত। সুভার মনের ভাব তার চোখের উপরে কখনো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে উঠত, আবার কখনো ম্লানভাবে নিভে আসত। তাই সুভার কালো চোখকে তর্জমা করতে হয় না।
উদ্দীপকের হুমায়রার সঙ্গে সুভার বৈসাদৃশ্য হলো কাছের মানুষদের অবজ্ঞা ও অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। তাই তার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে বিরক্ত ছিলেন। সুভার বাবা তাকে ভালোবাসলেও তার বিকাশের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেননি। পিতামাতার হৃদয়ভার ছিল সে। সুভা সবার আচরণে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ ভেবে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইত।
উদ্দীপকে বর্ণিত হুমায়রা সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। অথচ এতে তার জীবন থেমে থাকেনি। বাবা-মা তাকে প্রতিবন্ধী স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলে সে পড়াশোনা করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ পেরেছে। হুমায়রা জীবনের এই ঘটনা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে মেলে না। সুভা জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। তাই সে সবার কাছে উপেক্ষিত হয়েছে। তার জীবনটাকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করার কোনো পথ তাকে কেউ বাতলে দেয়নি। এমনকি তার মা-বাবাও নয়। বরং সবার কাছ থেকে সে অবহেলা পেয়েছে। আর এখানেই উদ্দীপকের হুমায়রার সঙ্গে তার বৈসাদৃশ্য।
"‘সুভা' গল্পে সুভার বাবা-মা যদি উদ্দীপকের হুমায়রার বাবা-মায়ের মতো হতো তাহলে সুভাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় যেতে হতো না", কেননা তাহলে সুভা আত্মপ্রতিষ্ঠিত হতো এবং বিয়ে করার জন্য কলকাতা না গেলেও চলত- তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা ছিল অবজ্ঞাত ও অবহেলিত। তার বাবা-মায়ের হৃদয়ভার ছিল সে। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ দেখতেন এবং গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। পরিবার ও সমাজের অবজ্ঞা পেয়ে সুভা বিকশিত হয়নি। উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানো হুমায়রার সফল জীবনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। দৃষ্টি হারিয়ে হুমায়রাকে থেমে থাকতে হয়নি। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। সে সমাজের বোঝা হয়ে থাকেনি। আর 'সুভা' গল্পে সুভাকে পরিবার ও সমাজের অনেক অবজ্ঞা, অবহেলা ও যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। তার বাবা-মা তাকে সহযোগিতা করেনি। তারা যদি তার প্রতি সহানভূতিশীল হয়ে তার পড়াশোনার ব্যবস্থা করত অথবা অন্য উপায়ে তাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করত, তবে তার জীবন অন্য রকম হতো.। সমাজের বোঝা হয়ে তাকে এতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হতো না।
'সুভা' গল্পে জন্ম থেকেই কথা বলতে না। যে নির্বাক প্রকৃতিকে সে তার পরম বন্ধু ভেবেছিল, তাকে ছেড়েও শেষ পর্যন্ত চলে যেতে হতো না। সুভাও উদ্দীপকের হুমায়রার মতো হতে পারত। তাই সুভার জীবনের এই করুণ পরিণতির দায় তার একার নয়, পরিবার ও সমাজেও। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
