Admin
Admin
27 May 2026 (4 months ago)

সৃজনশীলঃ ‘জন্ম থেকে নীলার…’ বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ ২০২৫ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ২য় অধ্যায় : ফুলের বিবাহ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়🔢 সৃজনশীল নং: ২৮🏢 প্রতিষ্ঠান: বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

জন্ম থেকে নীলার ডান হাত এবং ডান পা একরকম অকেজো। বেশিক্ষণ হাঁটতে পারে না। প্রায় সব কাজেই কারো না কারো সাহায্য নিতে হয়। অন্যদের মতো স্বাভাবিক না হওয়ায় কেউ তার সঙ্গে মিশতে চাইত না এবং খেলাও করত না। কিন্তু নীলা মনোবল হারায়নি। ডান হাতে শক্তি না থাকায় সে বাম হাতে লেখালেখি করে। পড়াশোনা অব্যাহত রেখে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক গণ্ডি পেরিয়ে সে এখন স্নাতকে ভর্তি হয়েছে।

উত্তর:

সুভা তার চিরপরিচিত নদীতটে শষ্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল।

উত্তর:

সুভাকে নিয়ে তার পিতার বিদেশযাত্রার উদ্যোগ নেওয়ার কারণে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্পে ভরে গেল।
'সুভা' গল্পের সুভা জন্ম থেকেই বাক্প্রতিবন্ধী। কথা বলতে না পারার কারণে তার পিতা-মাতা তাকে নিয়ে সারাক্ষণ বিচলিত থাকতেন। গৃহপালিত পশু ও বাড়ির বিড়াল শাবক ছিল তার বন্ধুর মতো। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা বাণীকণ্ঠ সুভাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চান। সেখানে সুভার যাওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না। পিতা-মাতাকে সে বলতেও পারছিল না। তাই শেষ পর্যন্ত যখন কলকাতায় যাওয়ার উদ্যোগ শুরু হলো এবং চূড়ান্ত হলো তখন সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাম্পে ভরে গেল।

উত্তর:

উদ্দীপকের নীলার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো শারীরিক প্রতিবন্ধিতা এবং সামাজিক অবজ্ঞা, অবহেলা ও নেতিবাচক আচরণ।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী। আর তার এই প্রতিবন্ধিতার কারণে তাকে সবাই অবহেলা ও অবজ্ঞা করত। তার সঙ্গে কেউ মিশত না, খেলত না।
উদ্দীপকের নীলা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ডান হাত এবং ডান পা একরকম অকেজো। স্বাভাবিক মানুষের মতো হাঁটাচলা, কাজকর্ম সে করতে পারে না। তাকে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। আর এ কারণে তার সঙ্গে কেউ মিশতে চায় না, খেলাও করে না। উদ্দীপকের নীলা এ অবস্থা 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুভা বাক্প্রতিবন্ধী বলে তার বয়সি ছেলে-মেয়েরা তার সঙ্গে মেশে না, খেলা করে না। সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সুভা প্রতিবন্ধী বলে সমাজের মানুষের কাছে সুভার মা-বাবাকে নানা অপমান ও গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। ছিপ ফেলে মাছ ধরার সময় নীরব সঙ্গী হিসেবে চাইলেও প্রতাপ সুভাকে কলকাতায় যাওয়ার সময় বারণ করেনি। এভাবে উদ্দীপকের নীলার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার মিল রয়েছে

উত্তর:

সুভার মধ্যে নীলার মতো দৃঢ়চেতা মনোভাবের অভাবের কারণে তাকে করুণ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে, তাই "উদ্দীপকের নীলা চরিত্রের যে দিকটি সুভার মধ্যে অনুপস্থিত, সেটিই তার করুণ পরিণতির মূল কারণ" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পের বাক্প্রতিবন্ধী সুভা অবজ্ঞা ও অবেহলার শিকার হয়। তার সামনে সবাই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা করত যে সে নিজেকে বিধাতার অভিশাপ মনে করত এবং আত্মগোপন করে থাকতে চাইত। সমবয়সি বালক-বালিকারা তাকে দেখে ভয় পেয়ে তার সঙ্গে খেলত না, তাই সে সঙ্গীহীন ছিল। সে প্রকৃতির কাছে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যের অবজ্ঞায় সে দৃঢ় থাকতে পারেনি বরং গুটিয়ে গিয়েছে বেদনায়।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্‌প্রতিবন্ধী; সে কথা বলতে পারে না। এ কারণে শৈশব থেকেই সে অবহেলার শিকার। সমবয়সিরা তাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ না করে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। পরিবারে বাবা সহ্য করলেও সুভার মা সুভাকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। মা তাকে নিজের ত্রুটিস্বরূপ মনে করেছেন। স্বাভাবিক মানুষের মতো বোধ-বুদ্ধিসম্পন্ন হয়েও সুভা সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে নিজেকে আলাদা করে রেখেছে। সে নির্বাক প্রকৃতি, গৃহপালিত পশুগুলোর সঙ্গেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের নীলা ব্যতিক্রম। নীলা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও স্বাভাবিক মানুষের মতো শিক্ষাগ্রহণ করতে চেয়েছে। ডান হাতে শক্তি না থাকলেও সে বাম হাতে লেখালেখি করে নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছে এবং স্নাতকে ভর্তি হয়েছে, যা সুভার পক্ষে সম্ভব হয়নি।
'সুভা' গল্পের সুভার কথা বলতে না পারাটাই তার জীবনের করুণ পরিণতির মূল কারণ হয়ে উঠেছিল। এ কারণেই সে সমাজ ও পরিবারের অবহেলার শিকার হয়ে মনোবল হারিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উদ্দীপকের নীলা মনোবল হারায়নি। সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়েছে। সুভা তার অনুভূতিকে সেভাবে প্রকাশ করতে পারেনি। সে কল্পনা করেছে প্রতিবন্ধিতা কাটিয়ে উঠতে কিন্তু বাস্তবে তা করতে পারেনি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘জন্ম থেকে নীলার…’ বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ ২০২৫ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”