উদ্দীপক-১:
‘এমন যদি হতো
ইচ্ছে হলে আমি হতাম
প্রজাপতির মতো।
নানান রঙ্গের ফুলের ‘পরে
বসে যেতাম চুপটি করে
খেয়াল মতো নানান ফুলের
সুবাস নিতাম কত।’
উদ্দীপক-২: মেধাবী শিক্ষার্থী শ্রেয়সী দুর্ঘটনায় দু’টি পা হারালে তার মধ্যবিত্ত বাবা-মা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেখান। সহপাঠীরাও সাহায্য-সহযোগিতা করে। এখন সে একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইংরেজি Gitanjali: Song Offerings সংকলন/কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
সুভার বিয়ে না দেওয়ায় বাণীকন্ঠের পরিবারকে একঘরে করবে এমন জনরব শোনা যায়।
'সুভা' গল্পে সুভা একজন বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। সে বোবা হওয়ার ফলে তার বাবা-মা তাকে বিয়ে দিতে পারছিলেন না। এ কারণে সবাই সুভার বাবা বাণীকণ্ঠকে নিন্দা করতে শুরু করে। তাছাড়া বাণীকণ্ঠ ছিলেন সচ্ছল, তাই তারা দুবেলা মাছ-ভাত খেতে পারতেন বলে তার শত্রুও ছিল। এসব কারণেই বাণীকন্ঠের পরিবারকে একঘরে করার জনবর শোনা যায়।
উদ্দীপক-১-এর সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুভা' গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত মমত্বের সঙ্গে। সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সকলের কাছে অবজ্ঞাত ও অবহেলিত। কিন্তু গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ মাছ ধরার সময় সে নির্বাক সঙ্গী হিসেবে কদর পেত। সে সময় তার ইচ্ছা হতো কোনো বিশেষ উপায়ে প্রতাপের মনোযোগ পেতে। তখন সে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা কামনা করত।
উদ্দীপক-১-এর কবি প্রজাপতি হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
তাহলে তিনি নানা রঙের ফুলে উপরে বসে নিজের ইচ্ছে মতো নানা ফুলের সুবাস নিতে পারতেন। কবির এমন আকাঙ্ক্ষা 'সুভা' গল্পের সুভার আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বাবা-মা, সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তাকে অবহেলা করে। ভাষাবিশিষ্ট জীবের মধ্যে সুভার একমাত্র সঙ্গী ছিল প্রতাপ। সে যখন ছিপ ফেলে মাছ ধরত তখন সুভা তার পাশে বসে থাকত। তখন তার ইচ্ছা করত প্রতাপের কোনো কাজে লাগতে। সে যে গুরুত্বাপূর্ণ কেউ-তা বোঝাতে মন চাইত। তাই তার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুভা বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করে। সে মন্ত্রবলে এমন কোনো আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে চায় যা দেখে প্রতাপ অবাক হয়ে সুভার প্রশংসা করে।
উদ্দীপক-২-এর শ্রেয়সীর মতো যদি সুভার বাবা-মা ও বন্ধুরা হতো তাহলে সুভার পরিণতি ভিন্ন হতো। মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা শ্রেয়সীর মতো সহযোগিতা পেলে সুভাও সফল ও সুখী হতে পারত।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধিতার কারণে সকলের কাছে অবহেলিত ছিল। কেউ তার সঙ্গে খেলত না। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক ভেবে বিরক্ত ছিলেন। সুভা মা-বাবার হৃদয়ভার ছিল।
উদ্দীপক-২-এর শ্রেয়সী দুটি পা হারালে তার মধ্যবিত্ত বাবা-মা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া শেখান। সহপাঠীরাও তাকে সহযোগিতা করে। এখন সে একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। 'সুভা' গল্পের সুভা উদ্দীপক-২-এর শ্রেয়সীর মতো সহযোগিতা পায়নি। মা তাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন। সমবয়সিরা তাকে খেলায় নেয়নি। সমাজের লোকেরা তাকে নিন্দা করেছে। এ নিন্দার ভয়ে বাবা বাণীকণ্ঠও শেষ পর্যন্ত তাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার আয়োজন করেন। উদ্দীপক-২-এর শ্রেয়সীর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে কোনো ধরনের মানসিক সহায়তা ও সহানভূতি পায়নি, যা সুভার জন্য অবমাননাকর। সুভা-যদি সবার কাছে স্নেহ-মায়া-মমতা ও সহানুভূতি পেত, তা হলে সে একটি সাজানো-গোছানো জীবন লাভ করে সুখে থাকতে পারত। কিন্তু এসব থেকে সুভা বঞ্চিত হলেও উদ্দীপক-২-এর শ্রেয়সী তা পেয়েছে। তাই সে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে।
