ছোটো একটা কোম্পানির চাকরিজীবী কামাল সাহেব। তার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মেয়ে কলেজে পড়ে। তাদের নিয়ে কামাল সাহেবের অনেক স্বপ্ন। ইদানীং তিনি খুব দুশ্চিস্তায় থাকেন, কারণ কোম্পানির অবস্থা ভালো না। একদিন অফিসে গিয়ে দেখেন ছাঁটাইয়ের খাতায় তার নাম। মাথায় যেন তার আকাশ ভেঙে পড়ে। ছেলের বিদেশে পড়ার স্বপ্ন, মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এসব নিয়ে চরম মানসিক বিপর্যস্ততায় ডুবে যান। ক্রমান্বয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে এক সময় সব জানতে পারে। কামাল সাহেব অপরাধীর সুরে বলেন, ‘তোমাদের জন্য কিছুই করতে পারলাম না।’ বাবার এই অবস্থায় ছেলে-মেয়ে তার পাশে দাঁড়ায়। তাদের জমানো সামান্য টাকা দিয়ে তারা ‘সুতোয় বোনা স্বপ্ন’ নামে ফেইসবুক পেইজ চালু করে অনলাইনে বিভিন্ন হস্তশিল্প, তৈরি পোশাক বিক্রি করে। দুই ভাই-বোন এবছর সেরা তরুণ উদ্যোক্তা পুরস্কার পেল।
বহিপীরের মতে, কৃতজ্ঞতার তেজ নেশার মতো।
জমিদারির অবস্থা অন্তঃসারশূন্য হওয়ার কারণে হাতেম আলি নিজের জমিদারিকে ঢাকের ঢোল বলেছেন।
‘বহিপীর’ নাটকে হাতেম আলি জমিদার হলেও তার জমিদারির অবস্থা ভালো ছিল না। খাজনার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সূর্যাস্ত আইনে তার জমিদারি হারানোর মতো অবস্থা। জমিদারি রক্ষার জন্য টাকা ধার করতে শহরে গিয়েও নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছেন। এ অবস্থায় তার জমিদারির করুণ পরিণতি বোঝানোর জন্যই হাতেম আলি নিজের জমিদারিকে ঢাকের ঢোল বলেছেন।
উদ্দীপকের কামাল সাহেবের মাধ্যমে 'বহিপীর' নাটকের জমিদার হাতেম আলির দায়িত্ববোধ ও দুশ্চিন্তার দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম চরিত্র হাতেম আলি। রেশমপুরে তার অল্পবিস্তর জমিদারি রয়েছে। কিন্তু সময়মতো খাজনার ব্যবস্থা করতে না পারায় সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে সেই জমিদারিও নিলামে উঠতে চলেছে। এমতাবস্থায় স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুশ্চিন্তায় তিনি ভেঙে পড়েন।
উদ্দীপকের কামাল সাহেব একটি বেসরকারি অফিসে চাকুরি করেন। তার ছেলে-মেয়েরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ একদিন কর্মী ছাটাইয়ের খাতায় নিজের নাম দেখতে পান তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একইভাবে, ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলিও জমিদারি হারানোর শঙ্কায় বিচলিত। একমাত্র সন্তান হাশেম আলির ভবিষ্যৎ কী হবে- এটাই ছিল তার মূল চিন্তা, যা উদ্দীপকের কামাল সাহেবের ভাবনারই অনুগামী। এ বিবেচনায় কামাল সাহেবের মাধ্যমে আলোচ্য নাটকের জমিদার হাতেম আলির দায়িত্ববোধ ও দুশ্চিন্তার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
‘কামাল সাহেবের ছেলেমেয়ে চিন্তা-চেতনার দিক থেকে নাটকের হাশেম আলির প্রতিনিধি।’- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘বহিপীর’ নাটকের অন্যতম চরিত্র হাশেম আলি। এ নাটকে নাট্যকার হাশেম আলিকে উত্থাপন করেছেন একজন প্রগতিশীল, প্রথাবিরুদ্ধ ও আত্মসচেতন যুবক হিসেবে। বাবার জমিদারি হারানোর কথা শুনে তিনি মোটেও চিন্তিত নন; বরং তিনি চিন্তিত হয়েছেন পিতার দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কথা ভেবে।
উদ্দীপকে কামাল সাহেব নামের এক ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে। বেসরকারি একটি কোম্পানিতে তিনি চাকরি করেন। তার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মেয়ে কলেজে পড়ে। এমতাবস্থায় একদিন কর্মী ছাটাইয়ের খাতায় তিনি নিজের নাম দেখতে পান এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে উদৃবিগ্ন হয়ে পড়েন। উম্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তানরা তার পাশে দাঁড়ায় এবং নিজেদের জমানো টাকায় ব্যবসায় শুরু করে সফলতা লাভ করে।
‘বহিপীর’ নাটকে হাশেম আলি একজন শিক্ষিত ও প্রগতিশীল যুবক। আর তাই নাটকের পুরোভাগ জুড়ে আমরা হাশেম আলিকে যুক্তিবাদী, ন্যায়নিষ্ঠ ও প্রতিবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পাই। শুধু তাই নয়, জমিদারি হারানোর সংবাদে পিতার মর্মপীড়াকেও তিনি যথার্থ উপলব্ধি করতে পেরেছিল সে। এ কারণে বহিপীরের সঙ্গে দ্বন্দ্বের মাঝেও পিতার প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল থেকেছে সে। শিক্ষিত মানুষ হিসেবে একটা কিছু করে নিজেকে দাঁড় করাবার কথাও ভেবেছে। একইভাবে, উদ্দীপকের কামাল সাহেবের ছেলেমেয়েরাও বিপদে বাবার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে সামান্য পুঁজি নিয়েই ব্যবসায় নেমেছে, যা অনেকাংশে আলোচ্য নাটকের হাশেম আলির মনোভাবেরই সমান্তরাল। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
