A. Nayan
A. Nayan
19 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘স্ত্রীর অনাথ ছোটো…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: ঢাকা বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

স্ত্রীর অনাথ ছোটো বোন কিশোরী আলোর দায়িত্ব পড়ে শফি মোল্লার ওপর। এদিকে সদ্য বিপত্নীক পৌঢ় বড়ো ভাই মন্টু মোল্লার সংসার সামলানো এবং সেবাযত্নের জন্য লোকেরও প্রয়োজন পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শফি মোল্লার বড়ো ভাইয়ের সাথে শ্যালিকার বিবাহ স্থির করেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী আবিদা এতে প্রতিবাদ করেন এবং বোনকে নিয়ে রাগে ও দুঃখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

উত্তর:

বহিপীরের নৌকা ডেমরার ঘাটে হাতেম আলির বজরার সাথে ধাক্কা লেগেছিল।

উত্তর:

প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা বহিপীর দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতাকে বোঝাতে চেয়েছেন।

হাতেম আলি একজন ক্ষয়িষ্ণু জমিদার। এখন এ অবস্থায় তাকে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। আর বিপদে যদি নিজের সর্বস্বও হারিয়ে যায়, তাতে ধৈর্য ধরতে হয়। কারণ ধৈর্য মানুষের একটি মহৎ গুণ। মূলত জমিদার হাতেম আলিকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্যই বহিপীর প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিলেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের শফি মোল্লা ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

‘বহিপীর’ নাটকে জমিদার হাতেম আলি অত্যন্ত মানবিকতাবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। খাজনা পরিশোধ করতে না পারলে তার জমিদারি নিলামে ওঠার উপক্রম হয়। খাজনার টাকা যোগাড় করার জন্য হাতেম আলি দিশেহারা হয়ে পড়ে। আর এ সুযোগটি কাজে লাগায় বহিপীর। বহিপীর আর্থিক সাহায্যের প্রলোভন দেখিয়ে তাহেরাকে স্ত্রী হিসেবে পেতে চায়। কিন্তু হাতেম আলি তাহেরার ভবিষ্যতের কথা ভেবে বহিপীরের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

উদ্দীপকের শফি মোল্লার ওপর তার অনাথ শ্যালিকার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পড়ে। শফি মোল্লার প্রৌঢ় বড়ো ভাই মন্টু মোল্লার সংসার সামলানোর জন্য লোকের প্রয়োজন পড়ে। এজন্য শফি মোল্লা তার শ্যালিকার সাথে মন্টু মোল্লার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু ‘বহিপীর’ নাটকের জমিদার হাতেম আলি তাহেরাকে বহিপীরের হাতে তুলে দিতে সম্মত হননি। উদ্দীপকের শফি মোল্লার মতো হাতেম আলি তাহেরাকে বিপদগ্রস্ত করেনি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শফি মোল্লা ‘বহিপীর’ নাটকের হাতেম আলি চরিত্রের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তর:

"উদ্দীপকের আবিদা লক্ষ্যহীন হলেও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম লক্ষ্যহীন নয়।"-উক্তিটি যথার্থ।

'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলির জীবনের লক্ষ্য ছিল প্রেসের ব্যবসা করার। তার বাবার জমিদারি নিলামে ওঠার উপক্রম হলে টাকার অভাবে সাধের স্বপ্ন ভেঙে যায়। তবে হাশেম আলি আশাহত হননি। লেখাপড়া করে শিক্ষিত হওয়ার কারণে অন্য যে-কোনো পেশায় জীবিকা নির্বাহ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। অতঃপর বহিপীরের হাত থেকে তাহেরাকে বাঁচাতে নতুন জীবনের পথেও পা বাড়িয়েছেন।

উদ্দীপকের আবিদার বোন আলোর সাথে বিপত্নীক মন্টু মোল্লার বিয়ে ঠিক করা হয়। আর এ বিয়ে ঠিক করে আবিদার স্বামী শফি মোল্লা। আবিদা তার বোনের এ অসম বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। এজন্য আবিদা স্বামীর কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে। অবশেষে তার বোন আলোকে সাথে নিয়ে রাগে ও দুঃখে স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

'বহিপীর' নাটকের হাশেম আলির জীবনের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট। তাহেরাকে বহিপীরের হাত থেকে রক্ষা করে হাশেম আলি তাহেরার জীবনের অনিশ্চয়তার দিকটি গভীরভাবে ভাবেন। তিনি তাহেরাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তাহেরার হাত ধরে নতুন গন্তব্যে যাওয়ার বিষয়টি হাশেম আলির লক্ষ্যহীন কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের আবিদা স্বামীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে লক্ষ্যহীন হয়ে পড়েছে। কারণ সে এখন কোথায় যাবে, কী করবে তা কিছুই জানে না। তাই পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আবিদা লক্ষহীন হলেও 'বহিপীর' নাটকের হাশেম লক্ষ্যহীন নয়।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘স্ত্রীর অনাথ ছোটো…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৪ – বহিপীর, নাটক, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”