নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের উভয়েই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় তাকে মিউচুয়ালিজম বলে। লাইকেন মিউচুয়ালিজমের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
খাদ্যশিকলে শক্তির প্রবাহ সবসময় একমুখী। খাদ্যশিকলের প্রতিটি ধাপে শতকরা ৮০-৯০ ভাগ শক্তি কমে যায়। ক্রমবর্ধমান এ ক্ষয়ের কারণে খাদ্যশিকল খুব বেশি বড় হলে ট্রফিক লেভেলে শক্তির পরিমাণ কমে যায়। খাদ্যশিকল বড় অর্থাৎ ৪ বা ৫ ধাপের বেশি হলে ঊর্ধ্বতম ট্রফিক লেভেলে এসে কোনো শক্তিই অবশিষ্ট থাকে না। এজন্যই ছোট খাদ্যশিকলের তুলনায় বড় খাদ্য শিকলে শক্তি কম পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-A দ্বারা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তিকে
নির্দেশ করে। নিচে এর ধাপসমূহ ব্যাখ্যা হলো-
i . কাঙ্ক্ষিত গুণসম্পন্ন DNA নির্বাচন।
ii. একটি বাহক নির্বাচন, যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ডটি স্থানান্তর করা সম্ভব।
iii. নির্দিষ্ট স্থানে DNA অণুকে ছেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
iv. ছেদনকৃত DNA খণ্ডসমূহ সংযুক্ত করার জন্য DNA লাইগেজ এনজাইম নির্বাচন।
V. কাঙ্ক্ষিত DNAসহ বাহক DNA-এর অনুলিপনের জন্য একটি পোষক নির্বাচন।
vi. কাঙ্ক্ষিত DNA খণ্ড সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA-এর বহিঃপ্রকাশ মূল্যায়ন।
উদ্দীপকে বর্ণিত চিত্র-A প্রক্রিয়াটি হলো জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। শস্য উন্নয়নে ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তিটির গুরুত্ব নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
i. কৃষিক্ষেত্রে : কৃষিক্ষেত্রে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির সাহায্যে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। লেপিডোপটেরা এবং কলিওপটেরা বর্গের অন্তর্ভুক্ত ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষম বিটি ভুট্টা, বিটি ধান, বিটি তুলা ইত্যাদি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ভাইরাল কোট প্রোটিনে জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে টমেটো মোজাইক ভাইরাস, টোবাকো মোজাইক ভাইরাস, টোবাকো মাইন্ড গ্রিন মোজাইক ভাইরাস প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। জিনগত রূপান্তরের মাধ্যমে ফসলের পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হয়েছে। যেমন, ধানে ভিটামিন A তথা বিটা-ক্যারোটিন জিন স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ধানের চাল থেকে প্রস্তুত ভাত খেলে আলাদা করে আর ভিটামিন A খেতে হবে না।
ii. চিকিৎসা ক্ষেত্রে : জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ইস্ট নামক ছত্রাক থেকে হেপাটাইটিস বি-ভাইরাসের ওষুধ (ইন্টারফেরন) তৈরি হচ্ছে। মানবদেহের ইনসুলিন তৈরির জিন ব্যবহার করে জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত E.coli ব্যাকটেরিয়া এবং ইস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হচ্ছে, যা মানুষের বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
তাই আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, শস্য উন্নয়ন ও চিকিৎসাক্ষেত্রে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
