লাইকেন হলো একটি শৈবাল ও একটি ছত্রাকের সহাবস্থান।
ধাঙড় হলো পরিবেশের আবর্জনাভুক প্রাণী। এরা জীবন্ত প্রাণীর চেয়ে মৃত প্রাণীর মাংস বা আবর্জনা খেতে বেশি পছন্দ করে। এজন্য কাকাকে ধাঙড় বলা হয়। এরা মৃতদেহ বা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত (i) নং শিকলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল। নিচে এর যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপক অনুযায়ী মৃত পাখিকে বিয়োজক (ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া) বিশ্লিষ্ট করে সেখান থেকেই পুষ্টিদ্রব্য গ্রহণ করে। আবার পুকুরের তলদেশের মাটিতে অবস্থিত কেঁচো বিয়োজকসমূহকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করে বেঁচে থাকে, যা মৃতজীবী খাদ্যশিকলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মৃতজীবী খাদ্যশিকল একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল। কেননা এরূপ শিকল বাস্তুতন্ত্রের যাবতীয় মিথস্ক্রিয়া বা আন্তঃসম্পর্কের অংশমাত্র তৈরি করে। মৃতজীবী খাদ্যশিকল সব সময়ই অসম্পূর্ণ থাকে। কারণ এখানে কোন উৎপাদক নেই। উদ্দীপকের (i) নং খাদ্যশিকলে উৎপাদক 'অনুপস্থিত থাকার কারণেই একে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ii নং শিকলে P হলো ছোট মাছ। ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের উপর যে ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবেশের কোনো প্রজাতির সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। কাজেই উদ্দীপকের খাদ্যশিকলে যদি ছোট মাছের সংখ্যা কমে যায় তাহলে বড় মাছের সংখ্যাও কমতে থাকবে। কারণ ছোট মাছ কমার কারণে বড় মাছের খাবারের ঘাটতি দেখা দিবে। সেজন্য বড় মাছের সংখ্যাও কমতে থাকবে। আবার ছোট মাছের 'সংখ্যা কমে গেলে প্লাংকটনের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। কারণ উৎপন্ন প্লাংকটনের যথেষ্ট পরিমাণ খাদক পুকুরে নেই। যদি উৎপাদকের পরিমাণ বাড়তে থাকে আবার বড় মাছের পরিমাণ কমতে থাকলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রে এক ধরনের জটিলতা দেখা দিবে। যাতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তার সাথে বাস্তুতন্ত্রের শক্তি প্রবাহ এবং পুষ্টি প্রবাহতেও জটিলতা দেখা দিবে, যা
কিনা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, ছোট মাছ অর্থাৎ 'P'-এর সংখ্যা কমে গেলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
