নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাকে জীববৈচিত্র্য বলে।
জীবের সব দৃশ্য ও অদৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করে জিন। সাধারণত একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একটি নির্দিষ্ট জিন থাকে এবং কোনো ক্ষেত্রে একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য একাধিক জিনও থাকতে পারে। নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ধারণকারী জিন পিতা-মাতা হতে বৈশিষ্ট্যসমূহ সন্তানসন্ততিতে স্থানান্তরিত করে। এজন্যই জিনকে বংশগতির ধারক বলা হয়।' বিভিন্ন জীবে জিনের সংখ্যা এক নয়। তবে একই প্রকৃতির জীবে তা প্রায় সবসময় একই থাকে। জিনগুলো সাধারণ নিয়মে ক্রোমোজোমের DNA অণুসূত্রের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত পৃথক ও রৈখিকভাবে পরস্পর সাজানো থাকে।
উদ্দীপকের উপাদানসমূহ হলো সূর্যের আলো, স্বভোজী (উদ্ভিদ), তৃণভোজী (খাদক), গৌণ খাদক, ছোট পাখি, চিল, কার্প মাছ ও শোল মাছ, এসব উপাদান ব্যবহার করে একটি জলজ বাস্তুতন্ত্রের বর্ণনা দেওয়া হলো-
বাস্তুতন্ত্রটিতে উৎপাদক হিসেবে রয়েছে স্বভোজী উদ্ভিদ যারা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে খাদ্য তৈরি করতে পারে। এদেরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তৃণভোজী, কার্প মাছ এবং ছোট পাখি, যারা এই জলজ বাস্তুতন্ত্রে প্রথম স্তরের খাদক। বাস্তুতন্ত্রের এই তিনটি উপাদানের মধ্যে তৃণভোজীকে খায় গৌণ খাদক, কার্প মাছকে খায় শোল মাছ -এবং ছোট পাখিকে খায় চিল যারা এই বাস্তুতন্ত্রে দ্বিতীয় স্তরের খাদকের ভূমিকা পালন করে। আবার এই গৌণ খাদককে ছোট পাখি এবং চিল উভয়ই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, তখন এই উপাদান - দুটি হয়ে যায় তৃতীয় স্তরের খাদক। শুধু গৌণ, খাদকই নয়, ছোট পাখিকেও চিল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, তখন চিল হয়ে যায় এই জলজ বাস্তুতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তরের খাদক। এভাবে একে অপরকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার মাধ্যমে এই বাস্তুতন্ত্রে ভারসাম্য বজায় থাকে।
উদ্দীপকের রেখাচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাচ্ছে এখানে চারটি খাদ্যশিকল বিদ্যমান। এগুলো হলো-
i. স্বভোজী → ছোট পাখি → চিল
ii. স্বভোজী → কার্প মাছ → শোল মাছ → চিল
iii. স্বভোজী → তৃণভোজী → গৌণ খাদক → চিল
iv. স্বভোজী → তৃণভোজী → গৌণ খাদক → ছোট পাখি → চিল
সব ধরনের খাদ্যশিকলেই প্রতিটি স্তরে কিছু শক্তি ব্যয় হয়। অর্থাৎ খাদ্যশিকলে স্তরের সংখ্যা যত বেশি হবে শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ তত বেশি হবে। তাই উদ্দীপকের রেখাচিত্রে বিদ্যমান চারটি খাদ্যশিকলের মধ্যে (iv) নং শিকলটিতে সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যয় হবে। সাধারণত খাদ্যশিকলে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে শক্তি প্রবাহকালে শ্বসন, তাপ ইত্যাদির কারণে শক্তি ব্যয় হয়। (iv) নং খাদ্য শিকলে খাদ্য স্তর পাঁচটি। এখানে স্বভোজীকে তৃণভোজী ভক্ষণ করে। এভাবে তৃণভোজীকে গৌণ খাদক, গৌণ খাদককে ছোট পাখি এবং ছোট পাখিকে চিল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। ফলে, পাঁচটি খাদ্যন্তরে চারবার শক্তি ব্যয় হয়।
অন্যদিকে (ii) এবং (iii) নং খাদ্যশিকলে চারটি করে খাদ্য স্তর বিদ্যমান, অর্থাৎ এই দুইটি শিকলে তিনবার শক্তি ব্যয় হয়। আবার রেখাচিত্রটির প্রথম শিকলে মাত্র তিনটি খাদ্য স্তর রয়েছে যেখানে শক্তি ব্যয় হয় দুইবার। অর্থাৎ (i) থেকে (iv) নং শিকলগুলোতে পর্যায়ক্রমে শক্তির ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হচ্ছে।'
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের রেখাচিত্রে বিদ্যমান শিকলগুলোতে পর্যায়ক্রমে সবচেয়ে বেশি শক্তি ব্যয় হয়।
