নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ কর-
খাদ্য শিকলের প্রতিটি স্তরকে ট্রফিক লেভেল বলে।
শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থান হলো মিউচুয়ালিজম। মিউচুয়ালিজম একটি ধনাত্মক আন্তঃসম্পর্ক যেখানে সহযোগীদ্বয়ের উভয় উপকৃত হয়। এজন্য শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়। কারণ ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ এবং উভয়ের ব্যবহারের জন্য খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। অপরদিকে শৈবাল তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ কারণে শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সবচেয়ে ছোট খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো-
উৎপাদক → খরগোশ → বাঘ।
নিচে উক্ত খাদ্যশৃঙ্খলটির ব্যাখ্যা করা হলো-
যেকোনো বাস্তুতন্ত্রে শক্তি প্রবাহ তথা পুষ্টির মূল উৎস হলো সূর্য।
উল্লেখিত খাদ্যশৃঙ্খলের উৎপাদক সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্যকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে নিজ দেহে সঞ্চিত রাখে। এ শৃঙ্খলে সবুজ উদ্ভিদকে (উৎপাদককে) খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে খরগোশ। ফলে সবুজ উদ্ভিদের (উৎপাদক) দেহে সঞ্চিত পুষ্টি খরগোশের দেহে স্থানান্তরিত হয়। আবার খরগোশকে খায় বাঘ। তাই খরগোশের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি বাঘের দেহে স্থানান্তরিত হয়। এখানে খরগোশ প্রথম স্তরের খাদক এবং বাঘ তৃতীয় বা সর্বোচ্চ খাদক। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা প্রস্তুত করতে পারে না তাই উৎপাদকের উপর নির্ভরশীল। আবার বাঘ মারা গেলে মাটিতে বিদ্যমান বিয়োজক যেমন 'বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক বাঘের মৃত দেহকে পঁচিয়ে ফেলে। ফলে বাঘের দেহের পুষ্টি পুনরায় মাটিতে ফিরে আসে। আবার উৎপাদক পুনরায় মাটি থেকে পুষ্টি শোষণ করে নেয়।
সুতরাং উৎপাদক থেকে পুষ্টি স্থানান্তরিত হয় খরগোশে এবং খরগোশ থেকে পুষ্টি যায় বাঘে।
উদ্দীপকের আলোকে সর্বোচ্চ স্তরের খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো-
উৎপাদক → ফড়িং → ব্যাঙ → সাপ → ময়ূর
খাদ্যশৃঙ্খলটির তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ। সাপের অনুপস্থিতিতে বাস্তুতন্ত্রে যেসব অসুবিধা হবে নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশিকল থেকে সাপের অনুপস্থিতিতে বাস্তুতন্ত্রে এক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। বাস্তুতন্ত্র তার বৈচিত্র্য হারাবে। আমরা জানি, পরিবেশ থেকে কোনো প্রজাতি হ্রাস পেলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই সাপের অনুপস্থিতিতে ব্যাঙের সংখ্যা বেড়ে যাবে। ফলে ফড়িং-এর সংখ্যা কমতে থাকবে। কারণ ব্যাঙ, ফড়িং খেয়ে বেঁচে থাকে। ফলে উৎপাদকের সংখ্যা কমতে থাকে। কারণ ফড়িং উৎপাদক খেয়ে বেঁচে থাকে। বাস্তুতন্ত্রে উৎপাদক কমে গেলে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে যে খাদ্য তৈরি হতো তা বাধা পাবে। কারণ পরিবেশ থেকে সেই সমপরিমাণ CO₂ গ্রহণ করতে পারবে না ফলে O₂ এর মাত্রা কমতে থাকবে যা অন্যান্য প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য হুমকিস্বরূপ। আবার সাপের অনুপস্থিতিতে তার উপর নির্ভরশীল ময়ূর খাদ্যাভাবে মারা যাবে এবং এক সময় বিলীন হয়ে যাবে। অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
