(i) শেওলা ⟶ ক্ষুদে পোকা ⟶ ছোট মাছ ⟶ বক
(ii) মানুষ ⟶ মশা ⟶ ম্যালেরিয়া জীবাণু
খাদ্য শিকলের প্রতিটি স্তরকে ট্রফিক লেভেল বলে।
শৈবাল ও ছত্রাকের পারস্পরিক সহাবস্থান হলো মিউচুয়ালিজম। মিউচুয়ালিজম একটি ধনাত্মক আন্তঃসম্পর্ক যেখানে সহযোগীদ্বয়ের উভয় উপকৃত হয়। কারণ ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প সংগ্রহ এবং উভয়ের ব্যবহারের জন্য খনিজ লবণ সংগ্রহ করে। অপরদিকে শৈবাল তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ কারণে শৈবাল ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়।
উদ্দীপকের (ii) নং খাদ্যশিকলটি একটি পরজীবী খাদ্যশিকল। এ ধরনের খাদ্য শিখল সবসময়ই একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল। নিচে পরজীবী খাদ্যশিকলটি ব্যাখ্যা করা হলো-
পরজীবী উদ্ভিদ ও প্রাণী অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজেদের চেয়ে লড় আকারের পোষকদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি পরজীবীর উপর আরেক ধরনের ক্ষুদ্রতর পরজীবী তার খাদ্যের উপর নির্ভরশীর হয়। এক্ষেত্রে খাদ্যশিকলের প্রথম ধাপে সব সময় সবুজ উদ্ভিদ নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শিকলটি অসম্পূর্ণ থাকে, যেমন-মানুষ ⟶ মশা ⟶ ম্যালেরিয়া জীবাণু।
উল্লেখ্য, এখানে মানবদেহের রক্ত শোষণকারী স্ত্রী এনোফিলিস মশা নিজে সেই রক্ত থেকে পুষ্টি লাভ করে না, কিন্তু তার গর্ভস্থ ডিমগুলোর বিকাশে কাজে লাগায়। বলাবাহুল্য, এই 'খাদ্যশিকলটি অসম্পূর্ণ এবং এ ধরনের শিকল বাস্তুতন্ত্রের যাবতীয় মিথস্ক্রিয়া বা আন্তঃসম্পর্কের অংশমাত্র তৈরি। করে। পরজীবী খাদ্যশিকল সবসময়ই অসম্পূর্ণ থাকে। কারণ এখানে, কোনো উৎপাদক নেই। এই 'খাদ্যশিকল কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শিকারজীবী খাদ্যশিকলের প্রথম এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশিকল উৎপাদক সবুজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার কার্যকরিতার উপর প্রতিষ্ঠিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত (i) নং খাদ্যশিকলটি হলো-
শেওলা ⟶ ক্ষুদে পোকা ⟶ ছোট মাছ ⟶ বক
উদ্দীপকে ছোট মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে বাস্তুতন্ত্রের উপর যে সমস্য সৃষ্টি হবে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
পরিবেশে কোনো প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে গেলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। কাজেই উদ্দীপকের খাদ্যশিকলে যদি ছোট মাছের সংখ্যা বেড়ে যায় তাহলে বকের খাবারের চাহিদা বেড়ে যাবে। সেজন্য বকের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। আবার ছোট মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে শেওলা ও ক্ষুদে পোকার সংখ্যাও কমতে থাকবে। কারণ উৎপন্ন শেওলা ও ক্ষুদে পোকার যথেষ্ট পরিমাণ খাদক পুকুরে নেই। যদি উৎপাদকের (শেওলা) ও ক্ষুদে পোকার পরিমাণ কমতে থাকে এবং বক-এর পরিমাণ বাড়তে থাকে তাহলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রে এক ধরনের জটিলতা দেখা দিবে। যাতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তার সাথে বাস্তুতন্ত্রের শক্তিপ্রবাহ এবং পুষ্টি প্রবাহতেও জটিলতা দেখা দিবে। যা কিনা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, ছোট মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
