যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের উভয়েই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয় এবং কেউ কারো ক্ষতি করে না তাই মিউচুয়ালিজম।
যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজেই প্রস্তুত করতে পারে, তাদেরকে স্বভোজী জীব বলে। এরা সাধারণত সালোকসংশ্লেষণ অথবা রাসায়নিক সংশ্লেষণের মাধ্যমে জৈব পদার্থ তৈরি করে। যেমন- সবুজ গাছপালা, শৈবাল, কিছু ব্যাকটেরিয়া (যেমন- নাইট্রোসোমোনাস)। এদেরকে অটোট্রফিক জীবও বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-'A' দ্বারা পুকুরের বাস্তুতন্ত্রকে বুঝানো হয়েছে।
নিচে পুকুরের বাস্তুতন্ত্র (বা জলজ বাস্তুতন্ত্র) এর বর্ণনা দেওয়া হলো-
জড় উপাদান: পানি, সূর্যালোক, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, বিভিন্ন জৈব ও অজৈব পদার্থ ইত্যাদি।
সজীব উপাদান: সজীব উপাদানের মধ্যে রয়েছে উৎপাদক ও বিভিন্ন ধরনের খাদক ও বিয়োজক।
উৎপাদক (স্বভোজী): উৎপাদক হচ্ছে সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার শৈবাল, শাপলা, কচুরিপানা, টোপাপানা ও অগভীর পানির উদ্ভিদ।
প্রথম স্তরের খাদক: তৃণভোজী, নানা ধরনের ভাসমান খুদে পোকা, মশার শূককীট, অতিক্ষুদ্র প্রাণী, জুপ্ল্যাংকটন ইত্যাদি।
দ্বিতীয় স্তরের খাদক: গৌণ খাদক, ছোট পাখি, ছোট মাছ, কিছু জলজ পতঙ্গ, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদক।
তৃতীয় স্তরের খাদক : যেসব খাদক ছোট মাছ, চিংড়ি ইত্যাদি দ্বিতীয় স্তরের খাদককে ভক্ষণ করে তাদের তৃতীয় স্তরের খাদক বলে। কার্প মাছ, শোল মাছ, চিল, বোয়াল, ভেটকি প্রভৃতি বড়মাছ, বক ইত্যাদি হচ্ছে তৃতীয় স্তরের খাদক।
বিয়োজক: পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে বিয়োজক হিসেবে বহু ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা জীবিত বা মৃত প্রাণীদের আক্রমণ করে ও পচনে সাহায্য করে।
এভাবেই একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-'B' তে শৃঙ্খল দুটি হলো শিকারজীবী এবং পরজীবী শৃঙ্খল। নিচে শিকারজীবী ও পরজীবী শৃঙ্খল দুটির মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো-
