জাইগোট বিভাজনের সময় ডিম্বকরন্দ্রের দিকের একটি বিশেষ কোষ যা নিষেক ক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে তাকেই ভিত্তিকোষ বলে। অথবা, জাইগোট বিভাজনের সময় ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষটিই ভিত্তিকোষ।
অ্যান্টিবায়োসিস হলো এমন একটি সম্পর্ক যেখানে একটি জীব অন্য জীবকে তার সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা ক্ষতি করে। উদাহরণ হিসেবে পেনিসিলিয়াম ছত্রাকের কথা বলা যায়, যা ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য পেনিসিলিন উৎপন্ন করে। পেনিসিলিনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয় অথবা ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। অ্যান্টিবায়োসিস জীবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত (i)নং খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো-
ঘাস → ফড়িং → ব্যাঙ →সাপ → গুঁইশাপ
নিচে উল্লেখিত খাদ্যশৃঙ্খলটির পুষ্টি প্রবাহ বর্ণনা করা হলো-যেকোনো বাস্তুতন্ত্রে শক্তিপ্রবাহ তথা পুষ্টির মূল উৎস হলো সূর্য। খাদ্যশৃঙ্খলটিতে ঘাস অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্যকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে নিজের দেহে সঞ্চিত রাখে। এ শৃঙ্খলে সবুজ ঘাসকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ঘাসফড়িং। ফলে সবুজ উদ্ভিদ ঘাসের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি ঘাসফড়িংয়ের দেহে স্থানান্তরিত হয়। আবার ঘাসফড়িংকে ভক্ষণ করে ব্যাঙ। তাই ঘাসফড়িং হতে শক্তি ব্যাঙের দেহে সঞ্চিত হয়। যাকে আবার খঅদ্য হিসেবে গ্রহণ করে সাপ। সাপ তার দেহে এই শক্তির ভগ্নাংশ, পরিমাণ জমা রাখে। সেটি আবার গৃহীত হয় গুঁইসাপ দ্বারা কারণ গুঁইসাপ সাপকে ভক্ষণ করে। এসব উদ্ভিদ এবং প্রাণিদের মৃত্যুর পর বিয়োজকগুলো এদের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে অজৈব বস্তুতে রূপান্তরিত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। সবুজ উদ্ভিদ এসব অজৈব বস্তু গ্রহণ করে এবং পুনরায় খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার করে থাকে। এভাবেই খাদ্যশৃঙ্খলে পুষ্টিপ্রবাহ চলমান থাকে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত (ii) নং খাদ্যশিকলটি হলো-
উদ্দীপকের 'A' অর্থাৎ ছোটো মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে বাস্তুতন্ত্রে যে ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-'
পরিবেশে কোনো প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে গেলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। কাজেই উদ্দীপকের খাদ্যশিকলে যদি ছোটো মাছের সংখ্যা বেড়ে যায় তাহলে বড়ো মাছের খাবারের চাহিদা বেড়ে যাবে। সেজন্য বড়ো মাছের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে। বড়ো মাছের সংখ্যা বাড়লে বাজপাখির খাবার বেশি পাবে ফলে বাজপাখির সংখ্যাও বাড়বে। আবার ছোটো মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে শৈবাল ও জুওপ্ল্যাংকটনের সংখ্যাও কমতে থাকবে। কারণ উৎপন্ন শৈবাল ও জুওপ্ল্যাংকটন-এর যথেষ্ট পরিমাণ খাদক পুকুরে নেই। যদি উৎপাদকের (শৈবাল) ও জুওপ্ল্যাংকটনের পরিমাণ কমতে থাকে এবং বড়ো মাছ ও বাজপাখির সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রে একধরনের জটিলতা দেখা দিবে। যাতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তার সাথে বাস্তুতন্ত্রের শক্তিপ্রবাহ এবং পুষ্টিপ্রবাহতেও জটিলতা দেখা দিবে। যা কিনা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, ছোটো মাছের সংখ্যা বেড়ে গেলে উক্ত বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।
