নিচের চিত্রটি লক্ষ কর-
নিউক্লিওটাইড: ৫ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা, নাইট্রোজন বেস, পেন্টোজ সুগার এই তিনটিকে একত্রে নিউক্লিওটাইড বলে।
DNA ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান। DNA-ই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং বাহক, যা জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সরাসরি বহন করে মাতাপিতা থেকে তাদের বংশধরে নিয়ে যায়। এজন্য DNA কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি (Chemical basis of heredity) বলা হয়।
উদ্দীপকের 'X' চিহ্নিত অংশটি হলো ক্রোমাটিন জালিকা বা ক্রোমোজোম। নিম্নে এর গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো:
কোষের বিশ্রামকালে অর্থাৎ যখন কোষ বিভাজন চলে না, তখন নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সুতার মতো অংশই হচ্ছে ক্রোমাটিন অন্ত্র বা ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয়াস রেটিকুলাম। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা এবং খাটো হয়, তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুনাবলি বহন করে এক. প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। কোনো একটি জীবের ক্রোমোজোম সংখ্যা এ জীবের জন্য নির্দিষ্ট। এসব ক্রোমোজোমে বংশধারা বহনকারী জিন (gene) অবস্থান করে এবং বংশের বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় বহন করা ক্রোমোজোমের কাজ।
উদ্দীপকের 'X' অর্থাৎ ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান হলো DNA। বর্তমান শতাব্দীতে DNA টেস্ট এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৃতব্যক্তি শনাক্তকরণ ছাড়াও ব্যবহৃত উপাদানটি সুবিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
DNA টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন পড়ে জৈবিক নমুনা। আর ব্যক্তির হাড়, দাঁত, রক্ত, সিমেন ও টিস্যু হতে পারে মূল্যবান জৈবিক নমুনা। অপরাধস্থল কিংবা অপরাধের শিকার ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনার DNA নকশাকে তুলনা করা হয় সন্দেহভাজনের কাছ থেকে নেয়া রক্ত বা জৈবিক নমুনার DNA নকশার সাথে। এ পদ্ধতিকে মূলত DNA finger printing বলা হয়। এছাড়া এই পদ্ধতিকে DNA টাইপিং বা DNA টেস্টিং বলে। প্রচলিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শী বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি আজ বাংলাদেশেও সুবিচার পাওয়ার এক নতুন উপায় DNA টেস্ট।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, DNA টেস্টের মাধ্যমে অপরাধী সনাক্তকরণ দ্বারা সুবিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
