সুমনরা চার ভাই বোন। সুমন জন্মের এক বছর থেকেই রক্তশূন্যতায় ভুগছে। ডাক্তারের পরামর্শে প্রতি দুই মাস অন্তর সুমনকে একবার রক্ত দিতে হয়। সুমনের মা-বাবা এই রোগের বাহক।
কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা হলো এমন অবস্থা যখন কেউ কোনো রং সঠিকভাবে চিনতে পারে না।
যেসব ক্ষেত্রে ডি.এন.এ টেস্ট করা প্রয়োজন তা হলো-
(i) অপরাধী শনাক্তকরণে,
(ii) সন্তানের পিতা-মাতা নির্ধারণে,
(iii) বিকৃত মৃতদেহ শনাক্তকরণে,
(iv) বংশগত রোগের চিকিৎসায়।
উদ্দীপকের সুমন থ্যালাসেমিয়াতে আক্রান্ত। এই রোগটি একটি বংশগত রোগ। এই রোগের কারণে জন্মের পূর্বেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। আর থ্যালাসেমিয়া মেজরে আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতায় ভোগে। যেহেতু রোগটি বংশগত, তাই এই রোগের কোনো স্থায়ী সমাধান নেই। তবে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত প্রদান ও নির্দিষ্ট ওষুধ খাইয়ে থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই রোগটি ধরা পড়লে লৌহসমৃদ্ধ ফল বা ওষুধ পরিহার করা উচিত। কারণ লৌহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জমে গিয়ে বিভিন্ন অজৈব ক্ষতি সাধন করবে। এই রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভম্ব। তবে তা করতে একটি ছেলে ও মেয়ের বিয়ের আগেই রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে, তাদের কারও থ্যালাসেমিয়া আছে কি না বা তারা কেউ বাহক কি না। যেহেতু বাবা-মার থেকে সহজেই একটি শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয় তাই বিয়ের আগেই বিষয়টি নিশ্চিত হলে অনাকাঙ্ক্ষিত এই রোগটি এড়ানো সম্ভব।
থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এরোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। এই রোগে লোহিত রক্তকণিকাগুলো নষ্ট হয়। পিতা মাতা উভয়ই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে তাদের থ্যালাসেমিয়া রোগের জিন সন্তানদের মধ্য সঞ্চারিত হবে।
ধরি,
থ্যালাসেমিয়া জিন r
সুস্থ জিন R
বাহক পিতার জিনোটাইপ- Rr
বাহক মাতার জিনোটাইপ- Rr
পিতা-মাতা: ফিনোটাইপ ⭢ বাহক পিতা × বাহক মাতা
জিনোটাইপ ⭢ Rr x Rr
গ্যামেট ⭢
RR – সুস্থ সন্তান
Rr - থ্যালাসেমিয়া বাহক সন্তান
rr – থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত সন্তান (সুমন)
সুস্থ সন্তান : থ্যালাসেমিয়া বাহক সন্তান : থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত
সন্তান = 1:2:1
অর্থাৎ পিতা মাতা উভয়ই থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলে তাদের সুস্থ শিশু হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%। থ্যালাসেমিয়া বাহক শিশু জন্মানোর সম্ভাবনা ৫০% এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুর সম্ভাবনা ২৫%।
সুতরাং বলা যায় যে, সুমনের অন্য ভাইবোন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলেও উক্ত রোগে আক্রান্ত হবার কোন আশংকা নেই।
