নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
একই সময়ে ডিম্বাণুর সাথে একটি পুংগ্যামেটের মিলন ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে অপর পুংগ্যামেটের মিলন প্রক্রিয়াকে দ্বি-নিষেক বলে।
পরপরাগায়ন সাধারণত একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে ঘটে। এ পরাগায়নের জন্য বাহকের প্রয়োজন হয়। বাহকের গায়ে লেগে পরাগরেণু এক উদ্ভিদ থেকে অন্য উদ্ভিদ স্থানান্তরিত হওয়ার সময় পড়ে যায়, অথবা বাহক অন্য প্রজাতির উদ্ভিদে চলে গেলে পরাগরেণু সেই উদ্ভিদে স্থানান্তরিত হয়। ফলে পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়।'
উদ্দীপকের চিত্র-M হলো ক্রোমোজোমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান DNA। নিচে DNA অণুর রাসায়নিক গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-পলিনিউক্লিওটাইডের দুটি শিকল সিঁড়ির মতো পেঁচিয়ে DNA অণু একটি বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে। প্রতিটি নিউক্লিওটাইড আবার তিন ধরনের অণু নিয়ে গঠিত। যথা- ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা, একটি ফসফেট গ্রুপ এবং একটি নাইট্রোজেন বেস। নাইট্রোজেন বেস পিউরিন এবং পাইরিমিডিন ধরনের। DNA অণুতে পিউরিন বেস দু'প্রকার। যথা- এডিনিন (A) এবং গুয়ানিন (G)। পাইরিমিডিন বেসও দু'প্রকার। যথা- থায়ামিন (T) এবং সাইটোসিন (C)। এক অণু ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা ও এক অণু নাইট্রোজেন বেস মিলে এক অণু নিউক্লিওসাইড গঠন করে। এর সাথে একটি অজৈব ফসফেট যুক্ত হয়ে একটি নিউক্লিওটাইড গঠিত হয়। এরূপ একাধিক নিউক্লিওটাইড যুক্ত হয়ে পলিনিউক্লিওটাইড সৃষ্টি হয়। এভাবে দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র পাশাপাশি যুক্ত হয়ে গঠিত হয় DNA অণু। এক্ষেত্রে সূত্র দুটির একটি এডিনিন অন্যটির থায়ামিনের সঙ্গে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনীর মাধ্যমে যুক্ত থাকে (A =. T)। আবার একটি সূত্রের গুয়ানিন অন্য সূত্রের সাইটোসিসের সঙ্গে -তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে ।
মেন্ডেল একটি লম্বা ও একটি খাটো মটর গাছ নিয়ে কৃত্রিম. উপায়ে লম্বা গাছের পরাগরেণু খাটো গাছের গর্ভমুণ্ডে এবং খাটো গাছের পরাগরেণু লম্বা গাছের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর করে এদের প্রজনন ঘটান। মটরশুঁটির উচ্চতা নির্ধারিত জিনের লম্বা সংস্করণটি T এবং খাটো সংস্করণটি । ধরেন। এক্ষেত্রে TT ও tt একত্রে থাকলে যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা ও বিশুদ্ধ খাটো এবং Tt থাকলে সংকর লম্বা হিসেবে ধরে নেন। চিত্র 'N' এর আলোকে বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটর গাছ নিয়ে যে তত্ত্ব প্রণয়ন করেছেন তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের জিনোটাইপ = TT এবং বিশুদ্ধ খাটো মটর গাছের জিনোটাইপ = tt
অর্থাৎ মেন্ডেলের তত্ত্ব অনুসারে লম্বা ও খাটো উদ্ভিদের সংকরায়নের ফলে বংশধরে সৃষ্টি সকল উদ্ভিদ লম্বা। আবার বংশধরের লম্বা উদ্ভিদের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে বংশধরে সৃষ্ট উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি লম্বা এবং একটি বিশুদ্ধ খাটো। অর্থাৎ যখন কোনো জীবে জিনের দুটি সংকরায়নই প্রচ্ছন্ন হয়, কেবল তখনই প্রচ্ছন্ন অর্থাৎ খাটো (tt) বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায়।
