নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সমসংস্থ বা হোমোলোগাস ক্রোমোজোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ার একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।
বিবর্তন তত্ত্বের ভিত্তিতে তিনটি ভিন্ন উপায়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে। যথা- মূল প্রজাতির থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ার ফলে, - সংকরায়নের ফলে এবং সংকরায়ন প্রজাতিতে কোষ বিভাজনের সময় ঘটনাক্রমে কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে। এর ফলে নতুন জীবটির অভিযোজন ঘটবে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা একটি নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হবে।
উদ্দীপকের চিত্র-Q-এ মেন্ডেল তত্ত্বের আলোকে একটি বিশুদ্ধ লম্বা ও একটি বিশুদ্ধ খাটো বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদের জিনোটাইপিক বৈশিষ্ট্যের ক্রসিং দেখানো হয়েছে। এ ক্রসিং থেকে বৈশিষ্ট্যগুলো উদ্ভিদে কোন অনুপাতে প্রকাশ পাবে তা বর্ণনা করা হলো-
ধরি, বিশুদ্ধ লম্বা গাছের জিনোটাইপ = TT এবং বিশুদ্ধ খাটো গাছের জিনোটাইপ = tt
সুতরাং উদ্দীপকের চিত্র Q অনুসারে দেখা যায় যে, বিশুদ্ধ লম্বা ও বিশুদ্ধ খাটো উদ্ভিদের সংকরায়নের ফলে বংশধরে সৃষ্টি সকল উদ্ভিদ লম্বা। আবার বংশধরের লম্বা উদ্ভিদের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে বংশধরে সৃষ্ট উদ্ভিদের মধ্যে তিনটি লম্বা এবং একটি বিশুদ্ধ খাটো উদ্ভিদ হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-P হলো ক্রোমোজোম। মানবদেহে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশগতীয় বিভিন্ন রোগ সঞ্চারিত হয়। যেমন- কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি। নিচে রোগগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
বর্ণান্ধতা: জিনগত কিছু অসুখ আছে, যেগুলোতে মিউটেশন হয় সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোতে। এসব অসুখকে বলে সেক্স লিংকড অসুখ। বর্ণান্ধতা এমনি একটি জিনগত অসুখ। আমরা জানি, যখন কেউ কোনো রং সঠিকভাবে চিনতে পারে না সেটি হচ্ছে কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। রং চেনার জন্য আমাদের চোখের স্নায়ু কোষে রং শনাক্তকারী পিগমেন্ট থাকে। কালার ব্লাইন্ড অবস্থায় রোগীদের চোখে স্নায়ু কোষের রং শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। যদি কারো একটি পিগমেন্ট না থাকে, তখন সে লাল আর সবুজ পার্থক্য করতে পারে না। এটা সর্বজনীন কালার ব্লাইন্ড সমস্যা। একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রং ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রং পার্থক্য করতে পারে না। পুরুষদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রতি ১০ জনে ১ জনকে কালার ব্লাইন্ড হতে দেখা যায়। তবে খুব কম নারীরাই এই অসুখে ভোগেন।
থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এই রোগে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। লোহিত রক্তকণিকা দুই ধরনের প্রোটিন দ্বারা তৈরি; α-গ্লোবিউলিন এবং ẞ-গ্লোবিউলিন। লোহিত রক্তকণিকার এ দুটি প্রোটিন জিন নষ্ট হলে ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকোষ উৎপাদিত হয়। ফলে দুই ধরনের থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। -থ্যালাসেমিয়া এবং β-থ্যালাসেমিয়া। জিনের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করেও থ্যালাসেমিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়া মেজরের ক্ষেত্রে শিশু তার বাবা ও মা দুজনের কাছ থেকেই থ্যালাসেমিয়া জিন পেয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া মাইনরের বেলায় শিশু থ্যালাসেমিয়া জিন তার বাবা অথবা মায়ের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এ ধরনের শিশুরা থ্যালাসেমিয়ার কোনো উপসর্গ দেখায় না, তবে থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হিসেবে কাজ করে। তীব্র থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত শিশুরা জন্মের প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা রোগে ভোগে।
