রং শনাক্তকরণের ইশিহারা চার্ট টেস্টে ব্যর্থ হওয়াতে বাবুল ভিডিও এডিটিং-এর চাকুরিটি পেলো না। অন্যদিকে বাবুল ও রিয়া দম্পতির পরপর তিনটি কন্যা সন্তান হওয়ায়, বাবুলের মা শুধুমাত্র রিয়াকে দোষারোপ করতে থাকেন।
যে প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে আরেকটি নতুন DNA অণু তৈরি হয় বা সংশ্লেষিত হয় তাকে DNA অনুলিপন বলে।
জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন। ডারউইন লক্ষ করেন যে জীবনে তিনটি পর্যায়ে এ সংগ্রাম করতে হয়। তারমধ্যে ব্যাঙ ও পতঙ্গের মধ্যকার জীবনসংগ্রাম হলো আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম। ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়। এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবনসংগ্রাম গড়ে ওঠে।
বাবুলের চাকরি না হওয়ার বংশগত কারণটি হলো কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
যখন কেউ কোনো রং সঠিকভাবে চিনতে পারে না। সেটি হচ্ছে কালার ব্লাউন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। রং চেনার জন্য আমাদের চোখের স্নায়ু কোষে রং শনাক্তকারী পিগমেন্ট থাকে। কালার ব্লাইন্ড অবস্থায় রোগীদের চোখে স্নায়ু কোষের রং শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। যদি কারো একটি পিগমেন্ট না থাকে, তখন সে লাল আর সবুজ পার্থক্য করতে পারে না। এটা সর্বজনীন কালার ব্লাইন্ড সমস্যা।
একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রং ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রং পার্থক্য করতে পারে না। পুরুষদের বেলায় সাধারণত প্রতি ১০ জনে ১ জনকে কালার ব্লাইন্ড হতে দেখা যায়, যা উদ্দীপকের বাবুলের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। বাবুল রং শনাক্তকরণের ইশিহারা চার্ট টেস্টে ব্যর্থ হওয়াতে সে ভিডিও এডিটিং-এর চাকরিটি পেল না, কারণ বাবুল বর্ণান্ধ।
উদ্দীপকে বাবুল রিয়া দম্পত্তির পরপর তিনটি কন্যা সন্তান হয়, এ কারণে বাবুলের মা শুধুমাত্র রিয়াকে দোষারোপ করেন। বাবুলের মা'র এ কার্যকলাপ যৌক্তিক কিনা তা বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবের লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমকে সেক্স ক্রোমোজোম বলে।
সেক্স ক্রোমোজোম দুটি X এবং Y নামে পরিচিত। স্ত্রীলোকের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX
কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X. এবং অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY। X এবং Y উভয় ধরনের সেক্স ক্রোমোজোমই আকৃতিতে লম্বা এবং রডের মতো তবে Y ক্রোমোজোম X ক্রোমোজোমের তুলনায় কিছুটা ছোট। স্ত্রীলোকদের ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু সৃষ্টির সময় যখন মিয়োসিস বিভাজন ঘটে তখন প্রতিটি ডিম্বাণু অন্যান্য ক্রোমোজোমের সাথে একটি X ক্রোমোজোম লাভ করে। অপরপক্ষে পুরুষে শুক্রাণু সৃষ্টির সময় অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে X এবং অর্ধেক সংখ্যক শুক্রাণু একটি করে Y ক্রোমোজোম লাভকরে। ডিম্বাণু পুরুষের X বা Y ক্রোমোজোমবাহী শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হতে পারে। ফলে জাইগোটটি দুটি X অথবা একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম বিশিষ্ট হতে পারে। দুটি X নিয়ে যে শিশু জন্মাবে সে হবে একটি মেয়ে অর্থাৎ XX আর যে শিশু একটি X এবং একটি Y অর্থাৎ XY নিয়ে জন্মাবে সে হবে একটি ছেলে।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে, অর্থাৎ কন্যা বা পুত্রসন্তান জন্ম হওয়ার ব্যাপারে মায়ের আদৌ কোনো ভূমিকা নাই। কারণ মা সবসময় কেবল X, বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করে। অন্যদিকে পিতা X এবং Y দু'ধরনেরই শুক্রাণু উৎপাদন করে লিঙ্গ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
পরিশেষে বলা যায়, কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার জন্য বাবুলের মা'র - রিয়াকে দোষারোপ করা যৌক্তিক নয়।
