নিচের উদ্দীপকটি লক্ষ করো-
যেসব স্পিন্ডল তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত থাকে সেগুলোই হলো আকর্ষণ তন্তু।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'M' রোগটি হলো রক্তজনিত সমস্যা থ্যালাসেমিয়া। পিতা ও মাতার থ্যালাসেমিয়া রোগটি থাকলে সন্তানের মধ্যে নানারূপ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকের সুমনের রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। থ্যালাসেমিয়া রোগটির ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বংশবাহিত রক্তজনিত সমস্যা। ধারণা করা হয়, দেশে প্রতিবছর 7000 শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং বর্তমানে প্রায় এক লাখ রোগী আছে। এটি একটি অটোসোমাল রিসিসিভ ডিজঅর্ডার, অর্থাৎ বাবা ও মা উভয়েই এ রোগের বাহক বা রোগী হলে তবেই তা সন্তানের রোগলক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। চাচাতো-মামাতো-খালাতো ভাইবোন বা অনুরূপ নিকট আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে এ ধরনের রোগে আক্রান্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। তীব্র থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা রোগে ভোগে।
উদ্দীপকে 'N' রোগটি হলো কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা এবং 'M' রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। উদ্দীপকের আলোকে 'M' অর্থাৎ থ্যালাসেমিয়া রোগটি 'N' অর্থাৎ কালার ব্লাইন্ড অপেক্ষা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে "N" রোগটি হলো কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা এবং "M" রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। উদ্দীপকের আলোকে "M" অর্থাৎ থ্যালাসেমিয়া রোগটি "N" অর্থাৎ কালার ব্লাইন্ড অপেক্ষা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্তকোষের এক অস্বাভাবিক অবস্থাজনিত রোগের নাম। এই রোগে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। লোহিত রক্তকোষ দুই ধরনের প্রোটিন দ্বারা তৈরি, ৫-গ্লোবিউলিন এবং B-গ্লোবিউলিন। লোহিত রক্তকোষের এ দুটি প্রোটিন জিন নষ্ট হলে ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকোষ উৎপাদিত হয়। ফলে দুই ধরনের থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। -থ্যালাসেমিয়া এবং ẞ-থ্যালাসেমিয়া। জিনের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করেও থ্যালাসেমিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং থ্যালাসেমিয়া মাইনর। থ্যালাসেমিয়া মেজরের ক্ষেত্রে শিশু তার বাবা ও মা দুজনের কাছ থেকেই থ্যালাসেমিয়া জিন পেয়ে থাকে। থ্যালাসেমিয়া মাইনরের বেলায় শিশু থ্যালাসেমিয়া জিন তার বাবা অথবা মায়ের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এ ধরনের শিশুরা থ্যালাসেমিয়ার কোনো উপসর্গ দেখায় না, তবে থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হিসেবে কাজ করে। তীব্র থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত শিশুরা জন্মের প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা রোগে ভোগে।
অপরদিকে, কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা একটি বংশগত রোগ। কিছু জিনগত অসুখ আছে, যেগুলোতে মিউটেশন হয় সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোতে। এসব অসুখকে বলে সেক্স লিংকড অসুখ।
যেহেতু Y ক্রোমোজোম খুবই ছোট আকৃতির এবং এতে জিনের সংখ্যা খুব কম। তাই বেশির ভাগ সেক্স লিংকড অসুখ হয় X ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোর মিউটেশনের কারণে। বর্ণান্ধতা রোগটিও সাধারণত X ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোর মিউটেশনের কারণে হয়ে থাকে। মহিলাদের দুটি X ক্রোমোজোম থাকে। দুটি X ক্রোমোজোমে একই সাথে একই অসুখের মিউটেশন থাকার সম্ভাবনা কম হয়। অপরদিকে ছেলেদের মাত্র একটি X ক্রোমোজোম থাকে তাই বর্ণান্ধতা মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের বেশি দেখা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, বর্ণান্ধতা বংশগত রোগ হওয়া সত্ত্বেও এতে মৃত্যু ঝুঁকি নাই, কিন্তু থ্যালাসেমিয়া রোগটির কারণে শিশুর মৃত্যুও হতে পারে। তাই বলা যায়, বর্ণান্ধতার চেয়ে থ্যালাসেমিয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
