নিচের চিত্রটি লক্ষ করো-
পুংস্তবকের পরাগধানীগুলো যখন একগুচ্ছে থাকে, তখন তাকে যক্তধানী বা সিনজেনেসিয়াস বলে।
একটি সম্পূর্ণ ফুলের পাঁচটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ থাকে; যেমন-পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। যেসব ফুলে এই পাঁচটি অংশই উপস্থিত থাকে তাকে সম্পূর্ণ ফুল বলে। ধুতুরা ফুলকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয় কারণ এতে এই পাঁচটি অংশই বিদ্যমান।
উদ্দীপকের চিত্রে 'A' হলো পরাগধানী। পরাগধানিতে পুংগ্যামেটোফাইট সৃষ্টি হয়। পুংগ্যামেট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পুংগ্যামেটোফাইট বলে। নিচে পুংগ্যামেটোফাইটের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা হলো-
পরাগরেণু পুং-গ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগ মাতৃকোষটি (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি অপত্য পরাগ কোষ (n) সৃষ্টি করে। পূর্ণতাপ্রাপ্তির পরপর পরাগথলিতে থাকা অবস্থায়ই পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকাটি মাইটোটিক পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। এ বিভাজনে একটি বড় কোষ এবং একটি ক্ষুদ্র কোষ সৃষ্টি হয়। বড় কোষটিকে নালিকোষ এবং ছোট কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলে। নালিকোষ বড় হয়ে পরাগনালি এবং জেনারেটিভ কোষটি বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজনন কোষ (Male gametes) উৎপন্ন করে। জেনারেটিভকোষের এ বিভাজন পরাগরেণুতে অথবা পরাগনালিতে সংঘটিত হতে পারে। এভাবে পুংস্তবকে পুং গ্যামেটোফাইট উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' চিহ্নিত অংশটি হলো ডিম্বক বা ভ্রূণথলি। ডিম্বক পরিস্ফুটনের মাধ্যমে নতুন স্পোরোফাইট বা পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো ফুলের গর্ভাশয়ের ভিতরে আট নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট থলির ন্যায় যে অঙ্গ দেখা যায় তাকেই ভূণথলি বলে। ভ্রূণথলির গর্ভযন্ত্রের কাছে অবস্থান করে ডিম্বাণু, মাঝখানে গৌণ নিউক্লিয়াস। পুংস্তবকের পরাগধানীতে তৈরি হয় পুংজননকোষ বা শুক্রাণু। পুংজননকোষটি ভূণথলিতে অবস্থিত ডিম্বাণুর সাথে মিলনের ফলে নিষেক ক্রিয়া ঘটায় এবং জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট কোষটি স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়। একই সাথে সস্যের পরিস্ফুটনও ঘটতে শুরু করে। জাইগোটের বিভাজন অনুপ্রস্থে ঘটে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি একটি ভ্রুণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোষ থেকে ভ্রূণধারক গঠন করে। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। এই সস্য কোষগুলো ট্রিপ্লয়েড অর্থাৎ এর নিউক্লিয়াসে 3n সংখ্যক ক্রোমোজোম থাকে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভ্রূণসহ বীজে পরিণত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইটের সৃষ্টি করে।
