নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপই হচ্ছে ফুল।
দলমণ্ডল হলো ফুলের দ্বিতীয় স্তবক, যার প্রতিটি খণ্ড পাপড়ি। পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়, যা পোকামাকড় ও পাখিদের আকর্ষণ করে। এতে পরাগায়ন সহজ হয়। পাপড়ি যুক্ত থাকলে যুক্তদল এবং আলাদা থাকলে বিযুক্তদল বলে। এভাবে দলমণ্ডল পরাগায়ন সহজ করে প্রজননে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের চিত্র- হলো পুংগ্যামেটোফাইট, যা উদ্ভিদে পুংগ্যামেট তৈরির জন্য দায়ী। নিচে পুংগ্যামেটোফাইট সৃষ্টির প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
পরাগরেণু পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। পরাগ মাতৃকোষটি (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি অপত্য পরাগ কোষ (n) সৃষ্টি করে। পূর্ণতাপ্রাপ্তির পরপর পরাগরেণু পরাগথলিতে থাকা অবস্থায়ই অঙ্কুরোদগম শুরু হয়। পরাগরেণুর কেন্দ্রিকাটি মাইটোটিক পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। এ বিভাজনে একটি বড় কোষ ও একটি ক্ষুদ্র কোষ সৃষ্টি হয়। বড় কোষটিকে নালিকোষ এবং ক্ষুদ্র কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলে। নালিকোষ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে পরাগনালি এবং জেনারেটিভ কোষটি বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজননকোষ পুংগ্যামেট উৎপন্ন হয়। এভাবেই পুংগ্যামেটোফাইটে পুংজনন কোষ (পুংগ্যামেট) উৎপন্ন হয়।
উদ্দীপকে চিত্র হলো পুংগ্যামেটোফাইট, যা পুংগ্যামেট উৎপন্ন করে এবং চিত্র হলো স্ত্রীগ্যামেটোফাইট বা ডিম্বাণু বহনকারী অংশ, যেখান থেকে বীজ ও ফল গঠিত হয়। ফল ও বীজ সৃষ্টিতে স্ত্রীগ্যামেটোফাইট পুংগ্যামেটোফাইট এর উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ফল ও বীজ সৃষ্টির পূর্বশর্ত হলো নিষেক প্রক্রিয়া আর নিষেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য অবশ্যই পুংজনন কোষ ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ফুলের পরাগধানীতে তৈরি পরাগরেণুর অভ্যন্তরে তৈরি হয় পুংজনন কোষ। অন্যদিকে ফুলের গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে স্ত্রীজননকোষ অর্থাৎ ডিম্বাণু তৈরি হয়। ফুলে পরাগায়নের ফলে পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে নিষেক ঘটায়। নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া শেষে ফল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় গর্ভাশয় ধীরে ধীরে ফলে এবং ডিম্বকগুলো বীজে পরিণত হয়। এরপর পরিপক্ব ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে সেগুলো বপন করলে নতুন চারা উদ্ভিদের জন্ম হয় এবং উদ্ভিদের বংশবিস্তার ঘটে। অতএব, পুংগ্যামেটোফাইট ও স্ত্রীগ্যামেটোফাইট পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে ফল ও বীজ সৃষ্টি তথা উদ্ভিদের বংশবিস্তার অব্যাহত থাকে।
