উদ্দীপক-A: পরাগরেণুর বিকাশের পর গঠিত হওয়া কাঠামো।
উদ্দীপক-B: মেগাস্পোর বিকাশের পর গঠিত হওয়া কাঠামো।
ককয়েকটি খাদ্যশিকল একত্রিত হয়ে যে জালের ন্যায় গঠন তৈরি করে তাই খাদ্যজাল।
সিভকোষ বিশেষ ধরনের কোষ। দীর্ঘ, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত এবং জীবিত এ কোষগুলো লম্বালম্বিভাবে একটির উপর একটি সজ্জিত হয়ে সিভনল গঠন করে। এ কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত সিভপ্লেট দিয়ে পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। সিভকোষে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর ঘেঁষে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয়, যেটা খাদ্য পরিবহণের নল হিসেবে কাজ করে। এদের প্রাচীর লিগনিনযুক্ত পরিণত সিভকোষে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না। সকল ধরনের গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ এবং সিভনল থাকে। পাতায় প্রস্তুত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহণ করা এদের প্রধান কাজ।
উদ্দীপক-B তে মেগাস্পোর বিকাশের পর গঠিত কাঠামোটি হলো ভ্রুণথলি। নিচে ভ্রূণথলির ক্রমবিকাশ প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো-
ভ্রুণপোষক কলায় ডিম্বকরন্ধ্রের কাছাকাছি একটি কোষ আকারে সামান্য বড়ো হয়। এর প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি তুলনামূলকভাবে বড়। এ কোষটি বিয়োজন বিভাজনের (মিয়োসিস) মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি করে। সর্বনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। সর্বনিম্ন এই বড়ো কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ ভ্রুণ থলিতে পরিণত হয়। এ কোষটির নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n)। এই নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ নিউক্লিয়াস দুটি ভূণথলির দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এবার এ দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পরপর দুবার বিভক্ত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
এর পরবর্তী ধাপে দুই মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস ভ্রুণথলির কেন্দ্রস্থলে এসে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) গৌণ নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। দুই মেরুর নিউক্লিয়াসগুলো সামান্য সাইটোপ্লাজম সহকারে কোষের সৃষ্টি করে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষ তিনটিকে গর্ভযন্ত্র বলে। এর মাঝের কোষটি বড়। একে ডিম্বাণু এবং অন্য কোষকে সহকারী কোষ বলা হয়। গর্ভযন্ত্রের বিপরীত দিকের কোষ তিনটিকে প্রতিপাদ কোষ বলে। এভাবেই ভ্রূণথলির গঠনপ্রক্রিয়া শেষ হয়।
উদ্দীপক-A তে বর্ণিত পরাগরেণুর বিকাশ এবং উদ্দীপক-B তে বর্ণিত মেগাস্পোরের বিকাশ। উভয় প্রক্রিয়াই সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজননের অপরিহার্য ধাপ। এই দুই প্রক্রিয়া বংশগতি বা জিনগত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঠিকভাবে পৌঁছাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
১. গ্যামেট সৃষ্টির মাধ্যমে জিনগত উপাদান সংরক্ষণ: পরাগধানীতে সৃষ্টি হওয়া পুংগ্যামেট (শুক্রাণু) এবং ভূণথলিতে তৈরি হওয়া স্ত্রীগ্যামেট (ডিম্বাণু)- উভয়েই হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ। মিয়োসিসের মাধ্যমে এ গ্যামেটগুলো গঠিত হয় বলে বংশগত উপাদান অর্ধেকে নেমে আসে, যা প্রজন্ম ধরে স্থায়িত্ব বজায় রাখে।
২. মিয়োসিসের ফলে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি: পুংজনন মাতৃকোষ ও স্ত্রীজনন মাতৃকোষে মিয়োসিস বিভাজন হওয়ায় ক্রসিংওভার, স্বতন্ত্রবণ্টন ইত্যাদির কারণে জীবে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়। এই বৈচিত্র্য উদ্ভিদের পরিবেশগত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়, যা বংশগত ধারাবাহিকতার জন্য প্রয়োজনীয়।
৩. নিষেকের মাধ্যমে দ্বিগুণ ক্রোমোজোম পুনরুদ্ধার: হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু ও হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি করে। ফলে প্রতিটি প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থির থাকে, অর্থাৎ বংশগত ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকে।.
৪. ভূণের বিকাশের ভিত্তি স্থাপন: পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেটের বিকাশ সঠিকভাবে না হলে জাইগোট তৈরি হবে না। জাইগোট থেকেই ভবিষ্যৎ উদ্ভিদ (পরবর্তী প্রজন্ম) তৈরি হয়, অর্থাৎ বংশবৃদ্ধি সরাসরি এ দুই প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল।
৫. মাতৃ ও পিতৃ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়: পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেট উভয়ই তাদের জিন পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তর করে। ফলে নতুন উদ্ভিদে পিতা-মাতার মিলিত বংশগত বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, এটিই বংশগতির মূল ভিত্তি।
