A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘সাদিয়া অনার্স ফাইনাল…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – সমন্বয়, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

সাদিয়া অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার জন্য হাতে লিখে হ্যান্ডনোট তৈরি করছে। তার মা তাকে রান্নার বিষয়ে খেয়াল রাখতে বলেন। সে রান্নাঘরে কোনোকিছুর শব্দ পেয়ে দ্রুত প্রবেশ করে অ্যালুমিনিয়ামের গরম ঢাকনা উঠাতে গিয়ে ছেড়ে দিলেন। এ ঘটনায় মা খুব রাগ করেন।

উত্তর:

যে রাসায়নিক বস্তুটি কোষে উৎপন্ন হয়ে উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী স্থানের কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে তাকে হরমোন বলে।

উত্তর:

উদ্ভিদদেহের কোনো অংশ যখন সামগ্রিকভাবে প্রয়োজনের তাগিদে একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে তাকে সামগ্রিক চলন বলে। ডায়াটমও তার সামগ্রিক প্রয়োজনের তাগিদে একস্থান থেকে অন্যস্থানে গমন করে বলে ডায়াটমের চলনকে সামগ্রিক চলন বলা হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকের সাদিয়ার হাতে সংঘটিত ক্রিয়াটি হলো প্রতিবর্তী ক্রিয়া।
আর প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলতে উদ্দীপনার আকস্মিকতা ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। সাদিয়া রান্না করার সময় হঠাৎ গরম ঢাকনা হাতে লাগলে তাৎক্ষণিকভাবে হাত অন্যত্র সরে যায়। এটি একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়া। এ ক্রিয়াটি যেভাবে ব্যাখ্যা করা যায় তা হলো গরম ঢাকনা হাতে লাগার সময় হাতের ত্বকে অবস্থিত সংবেদী নিউরনের ডেনড্রাইটসমূহ ব্যথার উদ্দীপনা গ্রহণ করে। এখানে ত্বক গ্রাহক অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
হাতের ত্বক থেকে এ উদ্দীপনা সংবেদী নিউরনের অ্যাক্সনের মাধ্যমে স্নায়ুকাণ্ডের ধূসর অংশে পৌঁছায়। স্নায়ুকাণ্ডের ধূসর অংশে অবস্থিত সংবেদী নিউরনের অ্যাক্সন থেকে তড়িৎ রাসায়নিক পদ্ধতিতে উদ্দীপনা মোটর বা আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর ডেনড্রাইটে প্রবেশ করে। সংবেদী স্নায়ুর অ্যাক্সন ও আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর ডেনড্রাইটের মধ্যবর্তী সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে এ উদ্দীপনা পেশিতে প্রবেশ করে। মোটর বা আজ্ঞাবাহী স্নায়ুর নিউরনের ডেনড্রাইট থেকে উদ্দীপনা পেশিতে পৌঁছালে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের নির্দেশে পেশির সংকোচন ঘটে। ফলে উদ্দীপনাস্থল থেকে হাত দ্রুত আপনা আপনি সরে যায়।
সুতরাং সাদিয়ার হাতে সংঘটিত ক্রিয়াটি স্বয়ংক্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত।

উত্তর:

উদ্দীপকে সাদিয়ার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রমে মানবদেহের যে বিশেষ অঙ্গ ভূমিকা রাখে সেটি হচ্ছে মস্তিষ্ক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মানবদেহের মস্তিষ্ক থেকে ১২ জোড়া এবং মেরুমজ্জা থেতে ৩১ জোড়া স্নায়ু বের হয়ে আসে এবং সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর শাখায় বিভক্ত হয়ে সারাদেহে ছড়িয়ে পড়ে। এই স্নায়ুগুলোই দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে যাবতীয় অনুভূতি মস্তিষ্কে নিয়ে যায়। সাদিয়া যখন তার হ্যান্ডনোট তৈরি করছিল তখন খাতা থেকে আলো তার চোখের রেটিনায় উদ্দীপনা জাগিয়ে স্নায়ু তাড়না সৃষ্টি করে। এই তাড়না চোখের স্নায়ু দিয়ে মস্তিষ্কের দৃষ্টি কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখান থেকে এই তাড়না পর পর চিন্তাকেন্দ্র, স্মৃতিকেন্দ্র প্রভৃতি হয়ে মোটর স্নায়ুযোগে সাদিয়ার হাতের ঐচ্ছিক পেশিতে পৌঁছে। তখন ঐ নির্দেশে সাদিয়া তার হাতের মাধ্যমে লিখতে থাকে। এভাবে উদ্দীপনা সঞ্চালনের মাধ্যমে সাদিয়ার স্নায়ুতাড়না ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। মস্তিষ্ক যদি আলোর ওই উদ্দীপনা গ্রহণ না করতো তাহলে সাদিয়ার হাতের পেশিগুলো তাদের করণীয় কাজের কোনো নির্দেশনা পেত না।
ফলে সাদিয়ার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রম ব্যাহত হতো।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সাদিয়ার পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার কার্যক্রমে হাতের পেশিতে উদ্দীপনা সৃষ্টির মাধ্যমে মানবদেহের মস্তিষ্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

9 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘সাদিয়া অনার্স ফাইনাল…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪ – সমন্বয়, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”