৭০ বছর বয়সী বাবুল সাহেবের মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে। অন্যদিকে তার ছোট ভাই আসাদ সাহেবের মূত্রের পরিমাণ কমে গেছে এবং রক্তে ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। আসাদ সাহেব ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি রক্ত পরিশোধনের উপায়সমূহের কথা বলেন।
ছোট দিনের উদ্ভিদ: যে উদ্ভিদের পুষ্পায়নে দৈনিক গড়ে 8-12 ঘন্টা আলো প্রয়োজন তাকে ছোটদিনের উদ্ভিদ বলে। যেমন: চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া।
পিটুইটারি গ্রন্থি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি। এটি মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি। এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরেয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), এডরেনোকর্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে।
উদ্দীপকের বাবুল সাহেব পারকিনসন রোগে আক্রান্ত।
এই রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে। ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়। এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া-এই ধরনের নানা উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আসাদ সাহেবের কিডনি বিকল হয়ে যায়। এই
সমস্যা দূরীকরণের জন্য রক্ত পরিশোধনের উপায়সমূহের মধ্যে ডায়ালাইসিস সুবিধাজনক। বৃক্ক বিকল হয়ে গেলে বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধনের প্রক্রিয়াটি হলো ডায়ালাইসিস, যার মাধ্যমে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সাময়িক সুস্থ রাখা সম্ভব। ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় রক্ত পরিশোধনের উপায় নিচে বর্ণনা করা হলো-
সাধারণত ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে রক্ত পরিশোধিত করা হয়। এ মেশিনটির ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে ও অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। ধমনি থেকে টিউবের মধ্য দিয়ে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভিতর পুনরায় প্রবেশ করে। ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়।
এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বাইরে নিষ্কাশিত হয় রক্ত পরিশোধিত হয়।
